সাম্প্রতিক সময়ে বাগানবাজার ইউনিয়ন জামায়াত ইসলামী রাজনৈতিক দলকে নিয়ে শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা চলছে। যেখানে বাগানবাজারে মাদকসহ আরও বিভিন্ন অন্যায় ও অপরাধের প্রতিবাদ ও সমালোচনা সাধারণ জনগণ করলেও, একটি বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত ইসলামীর নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সাধারণ জনগণ।
তারই পরিপ্রেক্ষিতে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবু ইউসুফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে একটি বার্তা দেন। যেখানে তিনি বলেন—
“বাগানবাজার ইউনিয়নে শিক্ষিত নামের কিছু মূর্খদের কথা, তারা জামায়াতের সাহসী নেতা খুঁজে পায় না। তাহলে আপনারা কি এটাই বোঝাতে চান? সাহসী মানে বালু উত্তোলন করতে গিয়ে মানুষ হত্যা করা? সাহসী মানে বাজার ইজারা ৫০,০০,০০০ টাকার বাজার ১,৫০,০০,০০০ টাকায় নেওয়া? যেখানে একটি গরু সর্বোচ্চ ৩০০–৪০০ টাকা হাসিল নেওয়ার কথা, সেখানে ৭০০–৮০০ টাকা? সাহসী মানে ৫ আগস্টের পর অনেক নিরপরাধ মানুষকে আওয়ামী লীগ ভেবে অত্যাচার করা? সাহসী মানে মদ-গাঁজা ব্যবসায়ী কর্মী তৈরি করা? দুই পরিবারের মধ্যে ঝগড়া লাগিয়ে দিয়ে মীমাংসার নামে বড় অঙ্কের ঘুষের লেনদেন করা? আলহামদুলিল্লাহ, বাগানবাজার ইউনিয়নে শত শত কর্মী থাকার পরেও এই কাজগুলোর সাথে জড়িত হতে আমরা দিই নাই। আমরা মানুষের ভালোটা চাই, মানুষের উপকার করতে চাই। মানুষ ভালো থাকুক এটাই আমাদের কামনা, অন্তত উপকার করতে না পারলেও কারো ক্ষতি করব না।”
তাঁর এই মতামত নিয়ে স্থানীয় নেটিজেনদের মধ্যে বিরক্তি আরও বেড়ে গেছে। কেউ কেউ বলছেন, যুক্তিটা খুব শক্ত মনে হয়নি। তারপরও তাদের ধন্যবাদ দিতে হয়, কারণ অন্তত রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে থেকে মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করছেন, যেটা আসলে একটি সামাজিক সংগঠনের মূল দায়িত্ব। দুঃখজনক হলেও সত্য, সারাদেশের মতো বাগানবাজারেও এখন একই চিত্র দেখা যায়।
স্থানীয় শিক্ষিত নামের মূর্খ জনগোষ্ঠী বলেন, তিনি যে ধরনের যুক্তি দিয়েছেন এই ধরনের সাহসিকতার কথাও বলা হয়নি কিংবা এই ধরনের কাজও করতে বলা হয়নি। জানতে চাওয়া হয়েছে মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান কী? কোনো অন্যায় দেখলে তাদের প্রতিবাদ করতে দেখা যায় না কেন? জানতে চাওয়া হয়েছে বাগানবাজারে এত কিছু হচ্ছে, তারপরও তাদের অবস্থান পরিষ্কার করা হয় না কেন? বলা হয়েছে বালু উত্তোলন নিয়ে কৃষকরা ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না, এর বিরুদ্ধে তারা চুপ কেন? রাজনীতি তো শুধু তাদের কর্মীদের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়, রাজনীতি হলো জনগণের হয়ে কথা বলা। স্থানীয় শিক্ষিত নামের মূর্খ জনগোষ্ঠী মনে করে, এরকমভাবে যদি ইউনিয়ন জামায়াত রাজনীতি করে, তাহলে জনগণ তাদের পক্ষে থাকলে বা সঙ্গ দিলে আরও বিপদের সম্মুখীন হবে।
স্থানীয় এক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক বলেন, এককথায় বলতে গেলে, আমিরের বক্তব্যের প্রথম অংশটি আংশিক ঠিক—অর্থাৎ অপরাধমূলক কাজকে সাহসিকতা না বলা এবং তা থেকে দূরে থাকা অবশ্যই সঠিক সিদ্ধান্ত। তবে, সমালোচকদের এই দাবিও পুরোপুরি যৌক্তিক যে—সমাজে ঘটে যাওয়া অন্যায়, মাদক ও জনগণের ভয়ের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান না নিয়ে চুপ করে থাকাটা একটি রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে কাম্য নয়। অন্যায় না করা যেমন দায়িত্ব, অন্যায়ের প্রতিবাদ করাও তেমনই নাগরিক ও political দায়িত্ব। কেবল আত্মপক্ষ সমর্থন না করে, স্থানীয় জনগণের বাস্তব সমস্যাগুলো সমাধানে তারা কী ভূমিকা রাখছেন, তা পরিষ্কার করলেই হয়তো এই বিতর্কের অবসান ঘটতো।