গতকাল সন্ধ্যায় বাগানবাজার ইউনিয়নের চিকছড়া বাজারের ব্যবসায়ী ও ইলেকট্রনিক মিস্ত্রি জাফর আহম্মেদকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মারধর ও রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাসেম মেম্বারের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ করেন, সন্ধ্যার দিকে কাসেম মেম্বার কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে জাফর আহম্মেদের দোকানে আসেন। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, এলাকায় চুরি হওয়া বিভিন্ন মোটর জাফর আহম্মেদের দোকানে বিক্রি করা হয়।
এ অভিযোগের জবাবে জাফর আহম্মেদ দাবি করেন, তিনি কোনো চোরাই মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত নন। তিনি কাসেম মেম্বারকে বলেন, যারা তার কাছে মোটর বিক্রির অভিযোগ করেছে তাদের নিয়ে আসতে এবং প্রমাণ দেখাতে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, কাসেম মেম্বার যাদের চোর সন্দেহে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারাও জাফর আহম্মেদকে চেনেন না বলে জানান। এছাড়া যেসব ব্যক্তির মোটর চুরি হয়েছিল বলে দাবি করা হয়, তাদের কয়েকজনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তাদের দোকানে থাকা মোটরগুলো দেখানো হলেও কেউ নিজেদের চুরি হওয়া মোটর শনাক্ত করতে পারেননি।
অভিযোগ রয়েছে, কোনো প্রমাণ না পাওয়ার পরও কাসেম মেম্বার জাফর আহম্মেদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন চুরি হওয়া মোটর বের করে দেওয়ার জন্য। জাফর আহম্মেদ এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানালে এক পর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়।
পরবর্তীতে পাশের গরুর বাজারে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্য, লোকমান, মহিউদ্দিন, শুক্কুরসহ স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, জাফর আহম্মেদ পুলিশের কাছে অভিযোগ দিতে চাইলে পুলিশ তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বরং বিষয়টি ঈদের পর সমাধানের জন্য স্থানীয় ব্যক্তি লোকমানের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এছাড়া পরিবারের দাবি, পুরো ঘটনার ভিডিও জাফর আহম্মেদের ছেলের মোবাইলে ধারণ করা হয়েছিল। পরে ভিডিও ধারণের বিষয়টি বুঝতে পেরে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা ভিডিও মুছে ফেলার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে আবু মেম্বার, মহিউদ্দিন ও পুলিশ সদস্যসহ জাফর আহম্মেদের ছেলে থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে ভিডিওটি ডিলিট করে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, জাফর আহম্মেদ পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান। তিনি টিভি, ফ্রিজ, পানির মোটরসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি মেরামতের কাজ করেন। ফলে তার দোকানে একাধিক মোটর বা যন্ত্রাংশ থাকা স্বাভাবিক বিষয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ ছাড়াই শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে একজন ব্যবসায়ীর ওপর হামলা করা ঠিক হয়নি।
এ বিষয়ে কাসেম মেম্বারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।