গতকাল অনুষ্ঠিত স্থানীয় এসএসসি পরিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা নিয়মিত ও অনিয়মিত ছাত্রদের ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্ন দিয়ে পরিক্ষা নেওয়া নিয়ে নানান ধরনের অভিযোগ তুলেছেন।
স্থানীয় অভিভাবক ও এসএসসি পরিক্ষার্থীরা জানান, নিয়মিত ও অনিয়মিত ছাত্ররা ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্ন দিয়ে পরিক্ষা দিবে এই ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধানের পক্ষ থেকে পূর্ব থেকে জানানো হয় নি। তাদের সন্তানরা বর্তমান সিলেবাসের আলোকেই পরিক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছে। কিন্তু পরিক্ষার হলে গিয়ে অনিয়মিত ছাত্ররা দেখেন তাদের পূর্বের সিলেবাসের আলোকেই প্রশ্ন করা হয়েছে। যেখানে শিক্ষার্থীরা পূর্বের সিলেবাসের আলোকে প্রস্তুতি গ্রহণ করে নি।
এই ব্যাপারে হেয়াকো বনানী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মির্জা মোহাম্মদ বখতিয়োর উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি জানান- গত বছর এসএসসি পরিক্ষার্থীদের সিলেবাস পরিবর্তন করা হয়, যারা অনিয়মিত ছিলো তাহারা নতুন সিলেবাসের অন্তভূক্ত নয়, যারা নিয়মিত তাহারাই শুধু নতুন সিলেবাসের অন্তভূক্ত। তাই আমাদের কেন্দ্রে ৫ জন শিক্ষার্থীর আলাদা প্রশ্নের পরিক্ষা নেওয়া হয়েছে। এই ৫ জন শিক্ষার্থী পূর্বে অকৃতকার্য নয়, তাহারা গত বছর পরিক্ষায় অংশগ্রহণ ই করে নি। কিন্তু তারা নিজেদের অকৃতকার্য দাবি করছে না। তাই তারা এইটা নিয়ে বির্তক তৈরি করছে।
তিনি আরো বলেন, “২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা নতুন (সংক্ষিপ্ত) সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত, আর ২০২৩-২৪ ও ২০২২-২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা পুরোনো (পূর্ণাঙ্গ) সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষা দেবে। এটি মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশনা।”
কিন্তু গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষার্থীদের অভিভাকরা জানান, আমরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মমিন মজুমদারকে এই ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি এই ব্যাপারে কোনো মতামত দেন নি। তিনি উত্তরে বলেন এই ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না।
এছাড়া বনানী উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে ৫ জন অনিয়মিত ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করেছেন। তারমধ্যে চিনছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ২ জন, গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ২ জন ও দাঁতামারা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১ জন।
স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, শিক্ষকরা তারা তাদের পাঠদানে অনিয়মিতদের নতুন সিলেবাসে পাঠদান করিয়েছেন, এইটা কি শিক্ষকদের অবহেলা ? নাকি তাহাদের এই ব্যাপারে শিক্ষা বোর্ড থেকে কোনো নোটিশ কি দেওয়া হয় নি? নাকি তাহারা নোটিশ পেয়েও তাহা আমাদের অবগত করে নি? আমাদের তাহা বোধগম্য নয়।
তবে স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা বলেন, শুনলাম তারা পাশ করার মতো উত্তর লিখে আসতে পারেননি। এখন তারা যদি আবারও ফেল করে তার দায়বার কে নিবেন?
স্থানীয় একজন শিক্ষক বলেন, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশাসনিক অযোগ্যতা, সিলেবাস সম্পর্কে অস্পষ্টতা ও যোগাযোগের অভাব ছিল বলে আমি মনে করি।
সাধারণত অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা পুরাতন সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষায় বসে। শিক্ষা বোর্ডের বিগত বছরের রেকর্ড অনুযায়ী যারা আগে পরীক্ষা দেয়নি বা বিরত ছিল তারা সাধারণত অকৃতকার্য হিসেবে গণ্য। সেই অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা পুরাতন সিলেবাসের আওতাভুক্ত।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ প্রশাসনিক দক্ষতা বলে এই তথ্য শিক্ষকদের মধ্যে বিতরণ করে। এক্ষেত্রে বোর্ড কোন নির্দেশনা না দিলেও পুরাতন সিলেবাস থাকে। প্রধান শিক্ষক পরীক্ষার মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না দেওয়ায় এটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
মূলত প্রধান শিক্ষকের শিক্ষার্থীদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ না থাকায় শিক্ষার্থীরা পরিষ্কার নির্দেশনা পায়নি।
এতে করে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্তের সম্মুখীন হলে এর সম্পূর্ণ দায় বিদ্যালয় প্রধান কিংবা প্রশাসনের অযোগ্যতার উপর ন্যস্ত হবে।