বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
অভিযোগ ২৬ মে ২০২৬

২২০০ ভিজিএফ কার্ডের মধ্যে অর্ধেকই ভোগের অভিযোগ মহিউদ্দিন ও জসিম মেম্বারের বিরুদ্ধে

বাগানবাজার গ্রাফ নিউজ ডেস্ক

বাগানবাজার ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ২২০০টি অসহায় পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণের সরকারি বরাদ্দ আসে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ওয়ার্ড মেম্বার ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে কার্ড বিতরণ এবং কার্ডধারীদের মাঝে চাল সরবরাহ করা হয়। সাধারণত ঈদ, পূজা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এই সহায়তা দরিদ্র পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে এবারের ভিজিএফ কার্ড ও চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে নানা অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত অসহায় ও দরিদ্র পরিবারগুলোর অনেকেই কার্ড পাননি এবং পূর্ব নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্ড বণ্টনও করা হয়নি।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডে ১৩০টি পরিবারকে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে এবং অতিরিক্ত ৮০টি পরিবারকে সরকারদলীয় ওয়ার্ড সভাপতিদের মাধ্যমে কার্ড বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে অনেক ওয়ার্ডে নামমাত্র কিছু কার্ড বিতরণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের নেতাকর্মীদের দাবি, বরাদ্দকৃত ২২০০ কার্ডের মধ্যে মাত্র ৯০০ থেকে ১০০০ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। বাকি কার্ডগুলো মহিউদ্দিন ও জসিম মেম্বারের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কার্ডগুলোর বণ্টনের দায়িত্বও তাদের হাতেই ছিল।

এছাড়া পূর্বে সরকারদলীয় ওয়ার্ড সভাপতি ও মহিলা মেম্বারদের মাধ্যমে কার্ড বিতরণ করা হলেও এবার সেই প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ উঠেছে, যেসব কার্ড বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিতরণ করা হয়েছে, তার বড় অংশ প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছেনি। বরং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের মধ্যে সেগুলো দেওয়া হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, ভিজিএফ কার্ডের প্রকৃত উপকারভোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয় কর্মক্ষম অসচ্ছল নারী, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী পরিত্যক্তা, জেলে পরিবার এবং যাদের নিয়মিত আয়ের উৎস নেই—এমন দরিদ্র মানুষকে।

এ বিষয়ে ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল হালিম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ঈদ উপলক্ষে প্রতি ওয়ার্ডে ২৩০টি করে বিনামূল্যের ভিজিএফ চালের কার্ড বিতরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তার মতে, একটি ওয়ার্ডে ২৩০টি পরিবার এ সুবিধা পেলে কোনো প্রকৃত অসহায় পরিবার বাদ পড়ার কথা নয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার নিজস্ব ফার্মে কর্মরত শ্রমিকরাও এই কার্ড পাননি। ফলে কারা প্রকৃতপক্ষে কার্ড পেয়েছে এবং এর পেছনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কারসাজি হয়েছে কি না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

আব্দুল হালিম আরও বলেন, “যারা ১০ কেজি চালের লোভ সামলাতে পারে না, তারা জনগণের প্রতিনিধি হয়ে কীভাবে মানুষের সেবা করবে?”

একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, সরকারি চালের কার্ড নিয়ে গ্রুপিং বা সস্তা রাজনীতি না করে জনপ্রতিনিধিদের উচিত নিজস্ব অর্থায়নেও গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তিনি বলেন, “কার মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ হলো সেটি বড় বিষয় নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রকৃত অসহায় পরিবার সমানভাবে সুবিধা পেল কি না।”

এদিকে স্থানীয় সমাজকর্মীরা মনে করেন, বরাদ্দ কম হলেও তা সঠিকভাবে বিতরণ হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে জনসচেতনতা ও নজরদারি প্রয়োজন। তাদের মতে, দলীয় বা ব্যক্তিগত বিবেচনায় সরকারি অনুদান বিতরণ করা হলে তা জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বহীনতার পরিচয় বহন করবে।

তারা আরও বলেন, ধর্ম, বর্ণ ও দলমত নির্বিশেষে প্রকৃত দরিদ্র মানুষের মাঝে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে পারলেই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

এই ব্যাপারে জসিম মেম্বারের নিকট মতামত জানতে চাওয়া হলে, তিনি কোনো মতামত প্রদান করেন নি।

Ad Banner (300x250)
Ad Banner (300x250)
Ad Banner (300x600)