শনিবার (১৬ মে ২০২৬) ফটিকছড়ি থানা পুলিশের অভিযানে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পেলাগাজীর মোড় এলাকার পাকা সড়ক থেকে দুই যুবককে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন মোঃ মিজান হোসেন (২৫) ও মোঃ আরিফুল ইসলাম (২৪)।
পুলিশ জানায়, তাদের কাছ থেকে প্রায় ৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটক দুইজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় মাদক নির্মূলে ফটিকছড়ি থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিজান হোসেন ও আরিফুল ইসলাম উভয়ই বাগানবাজার ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আঁধারমানিক গ্রামের বাসিন্দা। একই সঙ্গে তারা আগামী স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মহিউদ্দিন এমএ’র ভাগিনা ও ছাত্রলীগ কর্মী রমজান আলীর ছোট ভগ্নিপতি বলেও এলাকায় পরিচিত।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, তারা আঁধারমানিক গ্রামের হারুন, নাইম ও শাকিলসহ কয়েকজনের সঙ্গে ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন শহর ও থানা শহরে সরবরাহ করতেন।
স্থানীয় ও গোপন সূত্রের ভিত্তিতে জানা যায়, আটক দুইজনের বহন করা ৫ কেজি গাঁজার মূল মালিক ছিলেন জসিম মেম্বারের ঘনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচিত মনির ও ইউসুফ।
স্থানীয়দের দাবি, ইউসুফ আঁধারমানিক গ্রামের বাসিন্দা এবং এলাকায় পাইকারি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হিসেবে পরিচিত। তার ভাই ইদ্রিসের বিরুদ্ধেও মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে মনির পেশায় একজন ড্রাইভার হলেও তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জসিম মেম্বারের ছত্রছায়ায় এলাকায় মাদক ব্যবসা বিস্তার লাভ করে ৭নং ওয়ার্ড-এ। স্থানীয়দের দাবি, মনির ও ৭নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইউসুফকে মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিকভাবে সেল্টার দেয় জসিম মেম্বার।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে আরিফুল ইসলামের ঘটনায় তার সহপাঠীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আরিফ একজন শিক্ষিত তরুণ ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার সহপাঠীদের অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না যে তিনি মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।
আঁধারমানিক গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা শাহীন আলম বলেন, “এলাকায় সবচেয়ে ভদ্র ছেলেদের মধ্যে একজন, আরিফ। যদি এই ঘটনায় সত্যিই জড়িয়ে থাকে, এর জন্য এলাকাবাসীকে দায় নিতে হবে। একজন ভদ্র, শিক্ষিত ছেলে কেন কীভাবে এটাতে জড়ালো? তা বের করে আনতে হবে। এর শতভাগ দায় মাদকাসক্ত সমাজ নিতে হবে, যেখানে গড়ে ৯০% যুবক SSC শেষ করার আগেই পড়ালেখা বন্ধ করে মাদকে জড়িয়ে যাচ্ছে দিন দিন। যেখানে ২০১৫–২৩ পর্যন্ত ৯০% পড়ালেখা করতো, এখন তা নেমে এসেছে ২০% এরও নিচে।”
আরিফের সহপাঠী হাসান মাহমুদ সৈকত বলেন, “এ দায় শুধু আরিফের নয়। সমাজ, পরিবার এবং এলাকার রাজনৈতিক পরিবেশও এর জন্য দায়ী। মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন।”
এড. ইউসুফ আলম মাসুদ বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা আমাদের যুব সমাজকে নষ্ট করছে, নষ্ট করছে আমাদের সমাজ! তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানাচ্ছি।
৭নং ওয়ার্ড-র মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে জসিম মেম্বারের সাথে বাগানবাজার গ্রাফ-র প্রতিনিধিরা একাধিকবার আলোচনা করা হলে, তিনি জানান তিনি যদি কোন মাদক ব্যবসা, কিংবা সেল্টারের সাথে জড়িত থাকে তাহলে তিনি নিজের জন্মদাতা ‘মা’-র সাথে জিনা করেন বলে দাবী করেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ভিন্ন। যেখানেই মাদকারবারীদের নাম আসে সেখানেই সেল্টার দাতা হিসেবে তার নাম সবত্র পাওয়া যায়। এই ব্যাপারে তার নিকট জবাদিহিতা চাওয়া হলে তিনি এর কোনো সঠিক জবাব দিতে পারেন নি।