উত্তর ফটিকছড়ির বাগানবাজার ইউনিয়ন যুবদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। সভাপতি পদে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত জসিমের নাম আলোচনায় আসার পর থেকেই এ নিয়ে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ, দলীয় সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কাউন্সিল ছাড়াই পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে একটি ‘পকেট কমিটি’ গঠনের চেষ্টা চলছে।
নেতাকর্মীদের ভাষ্য, সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে ইউনিয়ন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এরপর সেই কমিটির তত্ত্বাবধানে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করা হয়। সর্বশেষ ওয়ার্ড কমিটির প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে কাউন্সিলের মাধ্যমে ইউনিয়নের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতৃত্ব নির্বাচনের কথা।
তাদের দাবি, বাগানবাজার ইউনিয়নে আহ্বায়ক কমিটির পাশাপাশি ওয়ার্ড কমিটিগুলোও ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে। ফলে এখন নিয়ম অনুযায়ী কাউন্সিল আয়োজন করে নেতৃত্ব নির্বাচনের কথা। কিন্তু কাউন্সিল না করে সরাসরি থানা বা উপজেলা পর্যায় থেকে কমিটি ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, সম্প্রতি বাগানবাজার গ্রাফের পক্ষ থেকে লোকমানকে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি করার বিষয়টি সামনে আসার পর থানা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা ওই অবস্থান থেকে সরে আসেন বলে তারা জানতে পারেন। প্রায় এক মাস পর এখন আবার ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত জসিমকে সভাপতি করার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কয়েকজন যুবদল কর্মী অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক সময়ে তারা হামলা-মামলা, হয়রানি ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে দলীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলেও জসিম তখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে রাজনীতি করেছেন। তাদের দাবি, ৫ আগস্টের পর তিনি নিজেকে দীর্ঘদিনের ত্যাগী বিএনপি কর্মী হিসেবে উপস্থাপন করছেন।
নেতাকর্মীদের দাবি, বাগানবাজার ইউনিয়ন যুবদলের বর্তমান আহ্বায়ক আব্দুল হক। সিনিয়রিটি ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার বিবেচনায় তাকে সভাপতি পদে রাখার দাবি রয়েছে তৃণমূলের একটি অংশের।
এ ছাড়া সভাপতি পদে বর্তমান ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন ও যুবদল কর্মী আমির মাহমুদের নামও যোগ্য হিসেবে উল্লেখ করছেন কর্মীরা।
সাধারণ সম্পাদক পদে মারুফ, শোহরাব হোসেন সানবি ও আব্দুল হালিমকে যোগ্য মনে করছেন তারা। তাদের মধ্যে জাকির হোসেন, আব্দুল হালিম ও মারুফ উচ্চশিক্ষিত এবং দীর্ঘদিনের ত্যাগী কর্মী বলেও দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাগানবাজারসহ ফটিকছড়ি বিএনপিতে দুটি রাজনৈতিক বলয় সক্রিয়—একটি কর্নেল (অব.) আজিমুল্লাহ বাহারকে কেন্দ্র করে এবং অন্যটি বর্তমান সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরকে কেন্দ্র করে।
তৃণমূলের কয়েকজন কর্মীর অভিযোগ, সাংগঠনিক যোগ্যতা ও ত্যাগের পরিবর্তে গ্রুপিংয়ের রাজনীতি প্রাধান্য পাওয়ায় দীর্ঘদিনের কর্মীরা মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তাদের আরও অভিযোগ, গত ১৭ বছর যারা দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না কিংবা বিভিন্ন সময়ে সুবিধা নিয়েছেন, তাদের কেউ কেউ এখন গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে ত্যাগী ও শিক্ষিত কর্মীদের একটি অংশ রাজনীতি থেকে দূরে সরে গিয়ে নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন বলেও দাবি তাদের।
একাধিক কর্মী বলেন, দীর্ঘদিন ত্যাগ স্বীকার করার পরও যদি মূল্যায়ন না হয়, তাহলে নতুন প্রজন্মের শিক্ষিত ও তরুণদের রাজনীতিতে ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, নেতৃত্ব নির্বাচনে কাউন্সিলের মাধ্যমে ত্যাগ, যোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনপ্রিয়তার মূল্যায়ন করা হলে দলের ভেতরের অসন্তোষ অনেকটাই কমবে।
তাদের আশঙ্কা, কাউন্সিলের পরিবর্তে যদি পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠনের প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে দলের তৃণমূল পর্যায়ে অনাস্থা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষিত ও তরুণদের একটি অংশ ভবিষ্যতে দলীয় রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।
এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামত দিন!