উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার বাগানবাজার ইউনিয়ন যুবদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ, দলীয় গঠনতন্ত্র ও দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে একটি “পকেট কমিটি” দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে ইউনিয়ন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এরপর ওই আহ্বায়ক কমিটির তত্ত্বাবধানে প্রতিটি ওয়ার্ডে যুবদলের কমিটি গঠন সম্পন্ন করা হয়। সর্বশেষ ধাপে ওয়ার্ড কমিটির প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে কাউন্সিলের মাধ্যমে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়ার কথা।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাগানবাজার ইউনিয়নে ইতোমধ্যে আহ্বায়ক কমিটি এবং ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠন সম্পন্ন হয়েছে। ফলে এখন নিয়ম অনুযায়ী কাউন্সিল আয়োজন করে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের সময়। কিন্তু কাউন্সিল না করে সরাসরি কেন্দ্র বা থানা পর্যায় থেকে পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি ঘোষণার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তৃণমূলের কয়েকজন নেতাকর্মী অভিযোগ করেন, লোকমানকে সভাপতি এবং শোহরাব হোসেন সানবি সাধারণ সম্পাদক করার লক্ষ্যে একটি পকেট কমিটি গঠনের চেষ্টা চলছে। তাদের দাবি, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তৃণমূলের মতামত উপেক্ষিত হবে এবং সাংগঠনিক গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এছাড়া কয়েকজন নেতাকর্মী আরও অভিযোগ করেন, বিগত কোরবানির ঈদে লোকমান ভূজপুর থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক একরামকে একটি গরু উপহার দিয়ে কমিটি গঠনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, পুরো প্রক্রিয়ায় মহিউদ্দিন পক্ষ পর্দার আড়াল থেকে ভূমিকা রাখছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, কাউন্সিল ছাড়া কমিটি ঘোষণা করা হলে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করা ত্যাগী কর্মীরা মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হবেন। এতে সংগঠনের অভ্যন্তরে বিভক্তি সৃষ্টি হতে পারে এবং ভবিষ্যতে যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দাবি জানিয়েছেন, ওয়ার্ড কমিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে দ্রুত একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ কাউন্সিল আয়োজন করতে হবে। তারা বলেন, ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ নিশ্চিত করা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামত দিন!