বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
মাদক ২০ এপ্রিল ২০২৬

সীমান্ত নিয়ন্ত্রিত মাদক সিন্ডিকেটের রাজা বাবলু

বাগানবাজার গ্রাফ নিউজ ডেস্ক

বাগানবাজার সীমান্ত ঘেঁষা আঁধার মানিক এলাকা। দিনের বেলায় সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও, স্থানীয়দের কথায় রাত নামলেই বদলে যায় চিত্র। তাদের দাবি, এই সীমান্ত দিয়ে যে ভারতীয় অবৈধ মালামাল ঢোকে, তার বেশিরভাগই আসে এক ব্যক্তির হাত ধরে—বাবলু। এলাকাবাসীর কাছে সে শুধু একজন মানুষ নয়, যেন এই সীমান্তের অঘোষিত “রাজা”।

প্রায় এক যুগ ধরে বাবলুর নাম ঘুরে ফিরে আসে মাদক ব্যবসার সাথে। সময় বদলেছে, ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, কিন্তু বাবলুর অবস্থান যেন একই রয়ে গেছে—অটুট, অপ্রতিরোধ্য।

স্থানীয়দের বর্ণনায় উঠে আসে একের পর এক সময়ের গল্প। আওয়ামী লীগ শাসনামলে রুস্তম আলী চেয়ারম্যান থাকাকালে, অলি উল্ল্যাহ, পুলিশ কবির, ইকবাল ও আক্তারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলে নিজেকে দলের ত্যাগী কর্মী হিসেবে পরিচয় দিত বাবলু। সেই পরিচয়ের আড়ালেই নাকি ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে তার মাদকের সাম্রাজ্য।

সময়ের স্রোতে চেয়ারম্যান বদলেছে। শাহাদাত হোসেন সাজুর আমলে নতুন করে যুক্ত হয় সেলিম, শাহাদাত ও সাহাবউদ্দিনের নাম। কিন্তু গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন একই মানুষ—বাবলু।

এরপর আসে ৫ই আগস্টের পরের সময়। আবারও বদলায় পরিচয়। এবার বাবলু নিজেকে বিএনপির ত্যাগী কর্মী হিসেবে তুলে ধরে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জসিম মেম্বারের ছায়াতলে থেকে তার ব্যবসা তখন আরও জমে ওঠে।

তবে এই গল্পে বাবলু একাই নন। একই এলাকায় নেজামও গড়ে তুলেছে মাদকের একটি ছোট সাম্রাজ্য। দুই পক্ষেরই রয়েছে নিজস্ব কর্মী বাহিনী। শোনা যায়, বাবলুর অধীনে প্রায় ৫০ জন কাজ করে—যারা মাদক পাইকারি থেকে খুচরা পর্যন্ত ছড়িয়ে দেয় এলাকায়।

অদ্ভুত এক বৈপরীত্যের কথাও বলেন স্থানীয়রা। বাবলুর কোনো দৃশ্যমান পেশা নেই, কৃষিকাজেও তাকে দেখা যায় না। অথচ তার নামে রয়েছে বিস্তর জমিজমা। তবে তার বসতবাড়ি দেখে সেই সম্পদের ছাপ মেলে না।

এবারের গল্পে যুক্ত হয়েছে নতুন মোড়—নির্বাচন। ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে মেম্বার পদে প্রার্থী হয়েছেন বাবলু নিজেই। একই ওয়ার্ডে বর্তমান মেম্বার জসিম উদ্দিন লড়বেন চেয়ারম্যান পদে। আর তারই চাচাত ভাই নেজামও মেম্বার পদে প্রার্থী।

৭নং ওয়ার্ডের রাজনৈতিক অঙ্গনে তাই তৈরি হয়েছে এক জটিল সমীকরণ। অনেকেই বলছেন, প্রকাশ্যে না বললেও জসিম মেম্বার নেজামের প্রার্থী হওয়ায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। তবে বাবলুকে মেম্বার হিসেবে দেখতে তার আগ্রহ রয়েছে বলে গুঞ্জন আছে।

এর পেছনে অনেকের ব্যাখ্যাও রয়েছে। তাদের মতে, বাবলুকে পাশে পেলে রাজনৈতিক ও অন্যান্য দিক থেকে জসিম মেম্বার যতটা লাভবান হতে পারেন, নিজের আত্মীয় নেজামের ক্ষেত্রে সেই একই মাত্রার সুবিধা পাওয়া তার জন্য কঠিন। আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকলেও নেজামকে নিজের মতো করে নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনা করা সহজ হবে না—এমন ধারণাও অনেকের মধ্যে রয়েছে।

নেজামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি হালকা হেসে বলেন,
“সামনে নির্বাচন। কেউ এদের বিরুদ্ধে যেতে চায় না। গেলে ভোট পাবে না। এখন বলেন, কী করা যায়?”

অন্যদিকে, জসিম মেম্বারের কাছে যখন একই প্রশ্ন রাখা হয়, তিনি প্রথমে বাবলুকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে তার কথায় দ্বিধা স্পষ্ট—তিনি মনে করেন, বাবলু হয়তো অন্য কারও শেল্টারে আছে।

কিন্তু যখন তাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করা হয়—একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এতদিনে তিনি বাবলুর বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন—তখন আর কোনো উত্তর মেলে না।

ছবিতে জসিম মেম্বারের মতামত

প্রশ্নটা সেখানেই থেকে যায়।
আঁধার মানিকের নীরব রাতের মতোই—অজানা, অমীমাংসিত।


Ad Banner (300x250)
Ad Banner (300x250)
Ad Banner (300x600)