বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
অপরাধ ১৭ মে ২০২৬

বালুটিলার আলোচিত মাসুদ হত্যা মামলার আসামী দেলোয়ার কারাগারে পলাতক আসামীর বিরুদ্ধেও ওয়ারেন্ট ইস্যু করেছেন আদালত

বাগানবাজার গ্রাফ নিউজ ডেস্ক

বালুটিলার আলোচিত মাসুদ হত্যা মামলার আসামী দেলোয়ারকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। এর আগে তিনি পুলিশে গ্রেপ্তার হলেও হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে বিদেশে পালিয়ে যান। পরে আদালত তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

গত ১৩/০৫/২০২৬ ইং দেলোয়ার আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে, এই মামলার ১ নম্বর আসামী শামিমও জামিনে বের হয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছেন। তার বিরুদ্ধেও আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

জানা যায়,  মাসুদুর রহমান একজন গাড়ী ব্যবসায়ী ছিলো। মাসুদুর রহমানের সাথে হত্যাকারীদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিলো। হত্যাকারীদের  খুবই খারাপ ও ভূমি দস্যু প্রকৃতির লোকজন হিসাবে এলাকায় ব্যাপক পরিচিত। তাহাদের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে।

রমজান মাসে মাসুদুর রহমান বালুটিলা মসজিদ থেকে এশার ও তারাবী নামাজ আদায় করে তাহার মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি যাওয়ার পথে গত ২৫/০৩/২০২৩ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ০৯:৪৫ ঘটিকার সময় ০২ নং দাঁতমারা ইউপির অন্তর্গত বালুটিলা বাজারে মোঃ আকতার হোসেন এর হোসেনের নির্দেশে মোঃ শামীম- আক্তারের অফিসের সামনে খাগড়াছড়ি ও রারৈয়ারহাট হাইওয়ে রাস্তার উপর পৌঁছিলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তাহাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল দ্বারা মাসুদুর রহমানের গতিরোধ করে আসামীদের হাতে থাকা ধারালো ছুরি ও লাঠিসোটা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাসুদুর রহমানের উপর অতর্কিতভাবে হামলা করে।

এসময় মোঃ আকতার হোসেন (৪৫) এর নির্দেশে মোঃ শামীম (৩৫) ও মোঃ দেলোয়ার হোসেন (২৮) তাহাদের হাতে থাকা ধারালো ছুরি দ্বারা হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ভাইয়ের শরীর ও পিঠে এলোপাতাড়ি কোপ মেরে গুরুতর জখম করে। অন্যান্য সন্ত্রাসীরা তাহাদের হাতে থাকা লাঠিসোটা দ্বারা মাসুদুর রহমানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। আসামীগণ মাসুদুর রহমানকে মারধর করিতেছে সংবাদ পেয়ে  তার ভাই ও  স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ মীর হোসেনসহ আশেপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে সকল সন্ত্রাসী মাসুদুর রহমানকে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

মাসুদুর রহমানকে উদ্ধার করে  চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাসুদুর রহমান মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহায়তায় লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়।

এই হত্যাকান্ডের জন্য ১০ জনকে আসামী করে ভূজপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। আসামীরা হলেন:

১। মোঃ শামীম (৩৫), পিতা-মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন

২। মোঃ দেলোয়ার হোসেন (২৮), পিতা- ডাঃ আইয়ুব হোসেন

৩। মোঃ আকতার হোসেন (৪৫), পিতা-ডাঃ আনোয়ার হোসেন

৪। মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন (৫৫), পিতা-আলী আকবর

৫। ডাঃ আনোয়ার হোসেন (৭০), পিতা- আলী আকবর

৬। মোঃ রফিক (৩০), পিতা- মৃত আব্দুর হাই

সকলের বালুটিলা, ০২ নং দাঁতমারা ইউপি, থানা-ফটিকছড়ি, জেলা-চট্টগ্রামসহ আরও অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জন।

এ ঘটনায় তদন্ত শেষে পুলিশ শামিম ও দেলোয়ারের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। পরে আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং মামলার অন্য আসামীদের অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে মাসুদুর রহমানের পরিবার জানায়, আদালতের এ সিদ্ধান্তে তারা সন্তুষ্ট। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, পলাতক অন্য আসামীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।


Ad Banner (300x250)
Ad Banner (300x250)
Ad Banner (300x600)