ফটিকছড়ির দাঁতমারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চুড়ামনি এলাকায় গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে এক নারী ও তার পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন, অটোরিকশার ব্যাটারি ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা নাছমিন আক্তার ও তার স্বামী ইসমাইল হোসেন।
দম্পতির অভিযোগ, ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ২টার দিকে। ওই সময় ইসমাইল হোসেন বাড়িতে ছিলেন না। নাছমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশের পোশাক পরে তাদের বাড়িতে গিয়ে দরজায় নক করেন। স্বামী বাড়িতে নেই জানিয়ে সকালে আসতে বললেও একপর্যায়ে দরজা ভেঙে তারা ঘরে ঢুকে পড়ে বলে অভিযোগ।
অভিযোগে একরামুল হককে মূল অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার সঙ্গে হাছান, মহিন উদ্দিন, মো. শরিফ, ইয়াকুব চৌধুরী, আব্দুস শুক্কুর, আব্দুল করিম, জামাল উদ্দিন, রুবেল, রাসেল, আব্দুর রশিদ ও আবুল হোসেন প্রকাশ চন্দনার জামাইসহ আরও কয়েকজনের নাম এসেছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন নাছমিন।
নাছমিনের অভিযোগ, ঘরে প্রবেশের পর তার হাত ও মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। এ সময় তার ছোট শিশুদের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ভয় দেখানো হয় এবং তার শাশুড়িকেও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বসিয়ে রাখা হয়। পরে আলমারির চাবি ও টাকা কোথায় রাখা হয়েছে তা জানতে চাওয়া হয় এবং টাকা না দিলে শিশুদের গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
নাছমিন জানান, সন্তানদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তিনি আলমারি থেকে নিজের জমানো ২০ হাজার টাকা বের করে দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই টাকা হাছান নিয়ে নেন।
এরপর একরামুল হকের বিরুদ্ধে তাকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেওয়ার এবং আলমারি তছনছ করে দেড় ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগে ওই স্বর্ণের মূল্য প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ।
দম্পতির অভিযোগ, নাছমিনের শাশুড়ির কক্ষ থেকেও এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ও প্রায় ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঘরে থাকা চারটি অটোরিকশার ব্যাটারি, যার আনুমানিক মূল্য ৬০ হাজার টাকা, এবং নাছমিনের ভাইয়ের একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাছমিনের ভাষ্য, তিনি ও তার শাশুড়ি সাহায্যের জন্য চিৎকার করার চেষ্টা করলে একরামুল হক ও ইয়াকুব চৌধুরী তিন থেকে চার রাউন্ড গুলি ছোড়েন। গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাটি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাদের হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এরপর অভিযুক্তরা মোটরসাইকেল ও নিয়ে যাওয়া সিএনজিতে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ করেছেন নাছমিন ও তার পরিবার।
ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। পরে বিষয়টি নিয়ে থানায় যোগাযোগের পর আদালতের আশ্রয় নেওয়া হয়। নাছমিন আক্তারের করা অভিযোগে বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের স্থিরচিত্র এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের কপিও সংযুক্ত করা হয়েছে।
নাছমিন ও তার স্বামী ইসমাইল হোসেনের দাবি, এটি কোনো সাধারণ চুরি বা আকস্মিক বিরোধ ছিল না; বরং পরিকল্পিতভাবে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে ভয়ভীতি, লুটপাট ও হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চান।।
এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামত দিন!