ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর স্থান নির্ধারণের দাবিতে কাল রবিবার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ও সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
এ সময় বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট ইউনিয়ন এবং ঢাকা-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক ও বারৈয়ারহাট – ফটিকছড়ি সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।
গত ৭ জুলাই সরকার বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা গঠনের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে। প্রস্তাবিত সদর দপ্তর নির্ধারণ করা হয়েছে ভূজপুর থানার পাশে পশ্চিম ভূজপুর মৌজায়।
উত্তরের বাসিন্দাদের দাবি, প্রস্তাবিত ভূজপুর মৌজা থেকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের দূরত্ব ৮ থেকে ২৫ কিলোমিটার, যা সাধারণ মানুষের জন্য ভোগান্তির কারণ হবে। তাই তারা নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী জুসখোলা মৌজা অথবা সুবিধাজনক অন্য কোনো স্থানে সদর দপ্তর স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন।
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ গত কয়েক মাস ধরে এ দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছে। ১৪ জুলাই উত্তরাঞ্চলের ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে সড়কে নামেন। ১৬ জুলাই বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাটে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়। ১৮ জুলাই হেঁয়াকো বাজারে বিক্ষোভ ও এক ঘণ্টার সড়ক অবরোধ কর্মসূচিও পালন করা হয়।
আন্দোলনকারীদের দাবি, একাধিক কর্মসূচির পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না আসায় এবার ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ও অবরোধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, গত ১৪ জুলাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিনি নবগঠিত উপজেলার প্রথম ইউএনও এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়েছেন। উপজেলার দাপ্তরিক কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর জন্য জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে, সদর দপ্তর চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার দাবিতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলম মাসুদ।
হরতাল চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামত দিন!