নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা প্রশাসনিকভাবে আরও একধাপ এগিয়ে গেল। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) নতুন উপজেলার জন্য স্বতন্ত্র জিওকোড (Geo Code) ৩৪ নির্ধারণ করেছে। এর মাধ্যমে সরকারি তথ্যভাণ্ডার, প্রশাসনিক কার্যক্রম, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং পরিসংখ্যান ব্যবস্থাপনায় ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আনুষ্ঠানিকভাবে একটি স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হলো।
সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে উল্লেখ করা হয়, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম জেলার নতুন উপজেলা ফটিকছড়ি উত্তর-এর জন্য জিওকোড ৩৪ নির্ধারণ করা হয়েছে।
জিওকোড কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?
জিওকোড (Geo Code) হলো সরকারের নির্ধারিত একটি স্বতন্ত্র সাংখ্যিক পরিচিতি, যার মাধ্যমে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও পৌরসভাসহ প্রতিটি প্রশাসনিক এলাকাকে আলাদাভাবে শনাক্ত করা হয়।
এই কোড ব্যবহারের মাধ্যমে—
প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, জিওকোড প্রদান নতুন উপজেলার কার্যক্রম বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
সদর দপ্তর ইস্যুতে আন্দোলন অব্যাহত
অন্যদিকে, প্রশাসনিক অগ্রগতি চললেও ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর কোথায় হবে, তা নিয়ে উত্তরের ছয় ইউনিয়নে এখনো তীব্র বিতর্ক ও আন্দোলন চলছে।
বিশেষ করে বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট ও সুয়াবিল ইউনিয়নের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, গণশুনানির সুপারিশ, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপন করতে হবে।
এই দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক গণসমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ এবং হরতাল কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, গণশুনানির সুপারিশ উপেক্ষা করে সদর দপ্তর নির্ধারণের চেষ্টা করা হলে তা উত্তরাঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন করবে।
এদিকে উত্তর ফটিকছড়ির সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়েছে। স্মারকলিপিতে গণশুনানির সুপারিশ অনুযায়ী সদর দপ্তর নির্ধারণ, বিষয়টি পুনর্বিবেচনা এবং প্রয়োজন হলে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়।
স্থানীয়দের মতে, জিওকোড প্রদান নতুন উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিলেও সদর দপ্তর নিয়ে জনমতের প্রতি গুরুত্ব না দিলে আন্দোলন আরও জোরদার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত সংলাপের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য ও যৌক্তিক সমাধান বের করার আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামত দিন!