অনেক দিন ধরে একটা জিনিস খেয়াল করছি—নির্বাচন এখনো সামনে, কিন্তু মাঠের পরিবেশ ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে। বিশেষ করে আমাদের বাগান বাজার এলাকায়, আগের জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি নতুন মুখগুলোকেও বেশ সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। সবাই কোনো না কোনোভাবে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে চাইছে।
শোনা যাচ্ছে, এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নাও থাকতে পারে। যদি এমনটা হয়, তাহলে আসলে খেলাটা পুরো বদলে যাবে। তখন আর দল নয়—মানুষ দেখবে প্রার্থী হিসেবে আপনি কে, আপনি কী করেছেন, মানুষের সঙ্গে আপনার সম্পর্কটা কেমন।
আমার মনে হয়, অনেক দিন ধরেই আমরা একটা সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা থেকে দূরে ছিলাম। এমনও অনেক মানুষ ছিল, যারা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কখনো সামনে আসার সুযোগ পায়নি। কিন্তু এখন সময়টা একটু বদলাচ্ছে। অনেকেই সাহস করে নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ করছে—এটা ইতিবাচক দিক।
তবে একটা বিষয় পরিষ্কার করে বলা দরকার—এখনো যদি কেউ মনে করে যে প্রভাব খাটিয়ে, কিংবা পুরোনো কোনো “নিশ্চিত ভোট ব্যাংক” ধরে রেখে সহজেই জিতে যাবে, তাহলে সে ভুল করছে। মানুষ এখন অনেক সচেতন। তারা শুধু কথা শুনে না, কাজ দেখে।
আজকের ভোটাররা আসলে কী চায়? তারা চায় শান্তি, চায় উন্নয়ন, চায় এমন কাউকে—যে পাশে থাকবে, কথা রাখবে, আর দায়িত্ব নেবে। আগামীর রাজনীতি আমার কাছে মনে হয়—মেধা, কাজ আর সৃজনশীলতার জায়গা।
আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে মানুষের আস্থা অর্জন করা। মানুষ খুব কাছ থেকে দেখছে—কে কী করছে, কে শুধু বলছে, আর কে সত্যি কাজ করছে। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটা তারাই নেবে, এবং সেটা আগের মতো সহজভাবে প্রভাবিত করা যাবে না।
আমরা যারা ভাবছি সামনে আসব, আমাদের জন্যও এটা একটা পরীক্ষার সময়। মানুষকে বোঝানোর আগে, নিজের কাছে পরিষ্কার থাকতে হবে—আমি কেন প্রার্থী হতে চাই, আর আমি আসলে কী দিতে পারব।
শেষ কথা একটা—নির্বাচন শুধু জেতার জন্য না, মানুষের বিশ্বাস জেতার জন্য হওয়া উচিত। আর সেই জায়গাটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।