বাগানবাজার ইউনিয়ন এর জাতীয়বাদী শ্রমিকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম এর বিরুদ্ধে অসহায় নারীদের সাথে অনৈতিক সর্ম্পকের অভিযোগ উঠে একাধিক সূত্র থেকে।
১ নং বাগানবাজারে ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি ভাবে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ কার্যক্রম নিয়ে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। সাধারণত সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর, মার্চ ও এপ্রিল মাসে এই সুবিধা চালু থাকে। স্থানীয়দের দাবি, এই চাল বিতরণের দায়িত্বে থাকা ডিলার আবদুল শুক্কর কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত জনাব জাহাঙ্গীর সাহেব দরিদ্র নারীদের লক্ষ্য করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য বিরক্ত করে থাকেন।
অভিযোগ রয়েছে, মাসে ৩০ কেজি চালের কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন হতদরিদ্র নারীকে মোবাইল ফোনে নিয়মিত যোগাযোগ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে দিন-রাত তাদের বিরক্ত করা হয় এবং শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয় ।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, চরম দারিদ্র্য ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার কারণে কয়েকজন নারী বাধ্য হয়ে এই অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছেন। তবে অধিকাংশ ভুক্তভোগী নারী ভয়ের কারণে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। তাদের আশঙ্কা, ক্ষমতাসীনদের প্রভাব ও প্রতিশোধের ভয়ে অভিযোগ করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
একই সাথে ‘বাগানবাজার গ্রাফ’-কে এক ভুক্তভোগী জানান, সে জানে কাদের সাথে এই ধরনের কর্মকান্ড ঘটিয়েছে জাহাঙ্গীর। তবে কেহ-ই সংসারের নিরাপত্তার কারণে মুখ খুলতে রাজি নয়, পাশাপাশি জাহাঙ্গীর একজনকে ভোগ করে ক্ষান্ত হন না, ভুক্তভোগীদের সে অন্যজনের মাধ্যমে হুমকি-ধমকি দিয়ে তাদের সাথেও শারিরীক সর্ম্পক স্থাপনের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। তাদের মধ্যে রয়েছে করিম, শাহিন, লোকমান সহ আরো অনেকে বাকিদের ভুক্তভোগী ভালোভাবে চিনেন না। ভুক্তভোগী জানান, তাহারা আমাদের সাথে এই ধরনের অনৈতিক কাজ করার পর হুমকি দেন, যদি কেউ এই ব্যাপারে অবগত হয় তাহলে আমাদের চরিত্র খারাপ বলে আমাদের সমাজ থেকে বের করে দেওয়া হবে ও কঠিন শাস্তি প্রদান করা হবে।
জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে রয়েছে আরো ঘোরতর অভিযোগ, এক ভুক্তভোগী মহিলা তার বিবাহ বিচ্ছেদ এর বিষয়ে জাহাঙ্গীরের নিকট বিচার চাইতে গেলে তাকে বিচার পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেখিয়ে ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে তার সাথে শারিরীক সর্ম্পক করেন । পরবর্তিতে ভুক্তভোগী আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদপ্রাথী মহিউদ্দিন এর নিকট বিচারের জন্য বাদী হলে তার সহযোগী লোকমান জাহাঙ্গীর থেকে মোট অঙ্কের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেন।
একই সাথে কয়েক বছর আগে ইউপি সাবেক মহিলা মেম্বার রহিমা’র সাথেও জাহাঙ্গীরকে হাতেনাতে ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা। তাহারা জানান জাহাঙ্গীর নারী লোভী এটি সকলে অবগত। কিন্তু ভয়ে কেই মুখ খুলে না। তার এই অভিযোগগুলোর ব্যাপারে মহিউদ্দিন, মিয়া ড্রাইভার ভালোভাবে জানেন, তাদের ধারণা এখানে তারা কোনো সুবিধা পাচ্ছে বিধায় কেউ তার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। জাহাঙ্গীর মিয়া ড্রাইভারের শ্যালক ও মিয়া ড্রাইভার হচ্ছে মহিউদ্দিন এর ফুফাত ভাই।
জাহাঙ্গীর এর নিকট এই বিষয়ে কয়েকবার মতামত জানতে চাওয়া হলে, তিনি কোনো জবাব দেন নি। তবে ‘বাগানবাজার গ্রাফ’-র নিকট অভিযোগ আসে, যখন আমরা জাহাঙ্গীরের নিকট মতামত জানতে চেয়েছি তার পর থেকে ভুক্তভোগীদের ‘মহিউদ্দিন গ্যাং’-র মাধ্যমে বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দেওয়া হয় যেনো কেউ মুখ না খোলে।