বাগানবাজার ইউনিয়নের স্থানীয় পশুর হাটে ইজারাদারের লোকজনের বিরুদ্ধে সাধারণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় এবং নিয়মের বাইরে গিয়ে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের (চাঁদাবাজি) গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচিত জসিমের নেতৃত্বে হাটে রীতিমতো ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাটে প্রবেশ করা বিভিন্ন পশুবাহী গাড়ি থেকে সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়াও জোরপূর্বক অতিরিক্ত ২০ থেকে ৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এই অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রতিবাদ করায় মানিক নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীকে হেনস্তা ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও উঠেছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে অভিযুক্ত জসিম ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে বাজারের ইজারাদার ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মহিউদ্দিনের নাম ব্যবহার করে গালাগালি ও হুমকি দেন। কেন এই অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তারা দাবি করেন, প্রতিটি পশুর হাটের জন্য নাকি পুলিশকে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়, আর সেই টাকা সংগ্রহের জন্যই গাড়িপ্রতি অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে। একই সাথে মহিউদ্দিন জসিমের মুঠোফোনে ভিডিও কলের মাধ্যমে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের চাঁদা দেওয়ার জন্য হুমকি প্রদর্শন করে।
তবে বাজারে উপস্থিত স্থানীয়দের দাবি, হাট চলাকালীন সময় সেখানে পুলিশের কোনো উপস্থিতি দেখা যায়নি। ফলে পুলিশের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের এই ব্যাখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন,
“আমরা দূর-দূরান্ত থেকে গরু নিয়ে আসি। এখানে এসে যদি এভাবে মহিউদ্দিন বা অন্য কারো নাম ভাঙিয়ে গুন্ডামি করে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়, তাহলে ব্যবসা করব কীভাবে? কেউ প্রতিবাদ করলেই ক্ষমতার ভয় দেখানো হচ্ছে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, পশুর হাটে যদি সরকারি নির্ধারিত হারের বাইরে কোনো অর্থ আদায় করা হয়ে থাকে, তবে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তারা প্রশাসনের কাছে হাটে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপদ পরিবেশে ব্যবসা করার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামত দিন!