ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর যথাযথ স্থানে স্থাপনের দাবিতে চলমান আন্দোলন ও হরতালকে ঘিরে সাংবাদিকদের হয়রানি, শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ এবং জরুরি সেবায় সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক নাজমুল তারেক।
নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, উত্তর ফটিকছড়ির তিন ইউনিয়নের মানুষের আন্দোলন এখন আর শুধু একটি দাবি নয়, এটি গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনে ক্ষতি স্বীকার করেও মানুষ আন্দোলনে অনড় রয়েছে, যা তাদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তবে আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশের পাশাপাশি তিনি কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কথাও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হরতালের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সংবাদকর্মী হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এমনকি কিছু ব্যক্তি সাংবাদিকদের গলায় আইডি কার্ড ঝুলিয়ে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, উত্তর ফটিকছড়ির অনেক স্থানীয় সাংবাদিক ও অনলাইন সংবাদকর্মীর আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র না থাকলেও তারাই দীর্ঘদিন ধরে এলাকার খবর সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন।
নাজমুল তারেক আরও দাবি করেন, হরতাল পর্যবেক্ষণে যাওয়া যুবদলের তিনজন নেতাকেও হেনস্তার মুখে পড়তে হয়েছে। পাশাপাশি মাদ্রাসা ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বহনকারী একটি যানবাহন আটকে দেওয়ার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন। তার দাবি, ওই শিক্ষার্থীদের রাস্তার মাঝপথে নামিয়ে দেওয়া হয়, যদিও অন্য একটি স্কুলের গাড়িকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অনেক স্থানে ব্যারিকেড দিয়ে সড়ক অবরোধ করা হলেও জরুরি প্রয়োজনে তা সরিয়ে দেওয়ার মতো কাউকে দায়িত্বে দেখা যায়নি। জরুরি চিকিৎসাসেবার কোনো যানবাহন আটকে গেলে তার দায় কে নেবে—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে নাজমুল তারেক মন্তব্য করেন, উত্তর ফটিকছড়ির মানুষের আন্দোলন দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও কষ্টের ফসল। তবে এই আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত ফায়দা লুটতে চেষ্টা করছে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। কৃষকের উৎপাদিত ফসল হাটের ফড়িয়ারা যেমন নিজেদের লাভের জন্য ব্যবহার করে, তেমনি জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকেও কেউ কেউ নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামত দিন!