নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা গঠন নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে এবার ছয় ইউনিয়নের আবেদনপত্রে দুই ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের (মেম্বার) ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন নারায়ণহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদ। তার দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের পাশ কাটিয়ে দুই মেম্বারের মাধ্যমে আবেদন দেখিয়ে প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা আইনগত ও প্রশাসনিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
সোমবার (৩ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
হারুনুর রশিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘নান্দনিক ভুজপুর’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক লেখায় দাবি করা হয়, ছয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সমন্বয়ে ভুজপুর থানাকে উপজেলা করার আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি বলেন, বাস্তবে নারায়ণহাট ইউনিয়নের পক্ষে আশুতোষ চক্রবর্তী এবং দাঁতমারা ইউনিয়নের পক্ষে আনোয়ার হোসেন আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেন, যারা তখন শুধুমাত্র ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) ছিলেন।
সাবেক চেয়ারম্যানের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা আবেদন করার নির্বাহী ক্ষমতা একমাত্র নির্বাচিত চেয়ারম্যানের। সে সময় নারায়ণহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি নিজেই। ফলে চেয়ারম্যানকে অবহিত বা অনুমোদন ছাড়াই কোনো মেম্বারের মাধ্যমে ইউনিয়নের পক্ষে আবেদন করা আইনগত এখতিয়ারের বাইরে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দুই মেম্বারকে ব্যবহার করে অসৎ উদ্দেশ্যে একটি আবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে, যা তিনি জালিয়াতির শামিল বলে দাবি করেন।
নিজের দাবির পক্ষে হারুনুর রশিদ কয়েকটি সরকারি নথিও প্রকাশ করেন। প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইয়েদুল আরেফিনের স্বাক্ষরিত প্রস্তাবে সুয়াবিল ইউনিয়ন বাদ দিয়ে বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভুজপুর ও হারুয়ালছড়ি—এই পাঁচ ইউনিয়ন নিয়ে “ফটিকছড়ি উত্তর” উপজেলা গঠনের সুপারিশ করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, মাসিক সমন্বয় সভায় তৎকালীন সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, দুই পৌরসভার মেয়র, ইউএনও এবং ১৮ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।
তার প্রশ্ন, যদি চেয়ারম্যানদের সম্মতিতে পাঁচ ইউনিয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়ে থাকে, তাহলে পরে কীভাবে দুই মেম্বারের স্বাক্ষরকে ভিত্তি করে ছয় ইউনিয়নের আবেদন উপস্থাপন করা হলো? বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা গঠন, সদর দপ্তর নির্ধারণ এবং অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়ন নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে সাবেক চেয়ারম্যানের এই অভিযোগ নতুন করে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও নথির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামত দিন!