ফটিকছড়ির উত্তর উপজেলার ভূজপুর থানায় মাদকবিরোধী অভিযানে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে ভূজপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে-এর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন দেলোয়ার হোসেন দেলু, মানিক ও জামাল। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটকদের মধ্যে জামাল মাদক পরিবহনের কাজে সম্পৃক্ত ‘ক্যারিংম্যান’ হিসেবে এবং মানিক খুচরা বিক্রেতা হিসেবে কাজ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের আটকের মধ্য দিয়ে দাঁতমারা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ফটিকছড়ি উপজেলার ২ নং দাঁতমারা ইউনিয়নের মাদক সাম্রাজ্য। সংরক্ষিত দাঁতমারা রাবার বাগানের ইসলামপুর ও হোসেনের খীল ভেতরেই কয়েক বছর ধরে গড়ে তোলা হয়েছে শত শত অবৈধ বসতি। যা রিজার্ভ পাড়া হিসেবেও পরিচিত। অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থাসহ একেবারে নির্জন পরিবেশ হওয়ায় সংরক্ষিত বনভূমির এই এলাকাটি একেবারেই নিরাপদ আস্তানা হয়ে উঠেছে আস্থেজলা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদ থেকে ইসলামপুর ও হোসেনের খীল এলাকাটি হয়ে ওঠে মাদক ব্যবসায়ীদের নিরাপদ আস্তানা। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার দায়িত্বশীলরা বলছেন, মূলত ইসলামপুর ও হোসেনের খীলের এই রিজার্ভপাড়াটিই হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীদের অভয়ারণ্য। এখান থেকেই পরিচালিত হয়ে আসছে দেশের বিভিন্ন জেলায় মাদক সরবরাহ ও ডাকাতির মতো অহরহ ঘটনা। এর নেতৃত্বে রয়েছে মাদক সম্রাট ইব্রাহিম ইবু, আনোয়ারা, জাকির, ইউসুফ ও মানিক । এদের মধ্যে হোসেনের খীলের বাসিন্দা বেলাল ড্রাইভারের ছেলে ইউসুফের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ১০টি মাদক মামলা রয়েছে, ইসলামপুরের বাসিন্দা দেলোয়ারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলাসহ ৪টি মাদক মামলা রয়েছে। অন্যদিকে হোসেনের খীলের বাসিন্দা এরশাদ মিয়ার ছেলে আলমগীরের বিরুদ্ধে ১৬টি মাদক মামলা রয়েছে। বিগত সময়ে পুলিশকে মাসোয়ারা দিয়ে তারা এলাকায় মাদক ব্যবসা করে গেছে, এখনও করছেন।
পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এলাকাটি একেবারে নির্জন হওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীগুলোও সহজে সেখানে অভিযান পরিচালনা করতে সাহস করে না। তাই দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এই তিন মাদক ব্যবসায়ী
এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামত দিন!