জামায়াত থেকে বিএনপিতে যোগদান, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং সীমান্তকেন্দ্রিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মহসিন হোসেন সোহাগ এখন স্থানীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ৫ই আগস্টের পর জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন মহসিন হোসেন সোহাগ। পরে দল পরিবর্তন করে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে তিনি বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন।
সোহাগ জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন কর্মসূচি ও সভা-সমাবেশে নিয়মিত অংশ নিতেন। তবে পরবর্তীতে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে দলত্যাগের ঘোষণা দেন এবং বিএনপিতে যোগ দেন। এলাকাবাসীর দাবি, বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর পরামর্শেই তিনি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর প্রথমদিকে তিনি আবু মেম্বারের সমর্থক হিসেবে কাজ করতেন। পরে জসিম মেম্বার ও নিজামুদ্দিনের ঘনিষ্ঠ হয়ে আবারও স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই সময় থেকে সোহাগ বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এলাকাবাসীর দাবি, নেজাম উদ্দিন তাকে রাজনৈতিকভাবে সহযোগিতা করে এবং সীমান্তকেন্দ্রিক বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন সোহাগের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
বর্তমানে বাংলাবাজার এলাকায় একটি টেইলার্সের দোকান পরিচালনা করছেন সোহাগ। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই দোকানকে কেন্দ্র করেই তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এছাড়া সীমান্তের রাজা বাবলুর মাদক ব্যবসায়েও রয়েছে তার শেয়ার ।
এদিকে, আর্থিক সংকটের সময় সোহাগ তার এক ভাইয়ের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা ধার নেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই টাকা দেন ওমান প্রবাসী ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থী মোঃ মনির হোসেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের এক কর্মী বলেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মোঃ মনির হোসেন বিএনপিতে যোগ দেওয়ার জন্য প্রলোভন দেখান সোহাগকে । একই সঙ্গে নেজাম ও জসিম মেম্বারের রাজনৈতিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে তথ্য দেওয়ার দায়িত্বও তাকে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোঃ মনির হোসেন বলেন, “সোহাগকে ছোট ভাই হিসেবে চিনি। এর বাইরে তার বিষয়ে কিছু জানি না।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, সোহাগ নিজেকে বিএনপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন স্থানে বিরোধী মতের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে থাকেন।