গতকাল রাত আনুমানিক রাত ১টার সময় বাগানবাজার ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ ইভান রিসোর্ট সংলগ্ন কয়েকজন মাদকসেবককে হাতেনাতে আটক করেন এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ইভান রিসোর্ট থেকে মাদক ক্রয় করার ব্যাপারে স্বীকার করেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও ‘বাগানবাজার গ্রাফ’ ফেসবুক পেইজ থেকে প্রকাশ করা হয়।
উল্লেখ্য যে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বাগানবাজার ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বড়বিল এলাকার ইভান রিসোর্টকে কেন্দ্র করে মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। প্রথমে বড়বিল বাজারে একজন মাদকসেবক গাঁজাসহ আটক হলে সে জানায়, রিসোর্ট থেকেই সে মাদক কিনেছে। এর সূত্র ধরে আবু মেম্বারের নেতৃত্বে একটি অভিযান চালানো হয় এবং সেটি ফেসবুকে সরাসরি প্রচার করা হয়। অভিযানের সময় রিসোর্ট মালিক ইউসুফ মাদক-সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়।
তবে অনুসন্ধানে অভিযোগ ওঠে যে, এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাও জড়িত, যাদের মধ্যে রিনা মেম্বার ও মনিরুল ইসলামের নাম আসে। তাদের সহযোগিতায় রিসোর্টে মাদক ব্যবসার পাশাপাশি দেহব্যবসাও পরিচালিত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি। আরও অভিযোগ আছে, বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী এনে এই কার্যক্রম চালানো হয় এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে চাপা রাখা হয়েছে।
তখন স্থানীয়রা বলেছিলেন, বহুবার অভিযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযানের সময় আবু মেম্বার কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেও অনেকের সন্দেহ—এটি বাস্তব পরিবর্তনের জন্য, নাকি শুধুই লোক দেখানো পদক্ষেপ। এখন সবাই অপেক্ষা করছে ভবিষ্যতে আসলেই কোনো পরিবর্তন আসে কি না।
কিন্তু গত ১৪ই এপ্রিল ‘বাগানবাজার গ্রাফ’-এর নিকট অভিযোগ আসে, ইভান রিসোর্টে মাদকের ব্যবসা চলমান রয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সত্যতা যাচাই করার জন্য ছাত্রদল নেতা সোহাগকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি জানান, তিনি এই ব্যাপারে অবগত নন। তবে তাকে পর্যবেক্ষণের জন্য ‘বাগানবাজার গ্রাফ’-এর পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি গতকাল মাদকসেবীদের ইভান রিসোর্ট থেকে ক্রয় করে যাওয়ার সময় হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হন।
স্থানীয়রা জানান, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আবু মেম্বার ইভান রিসোর্টে মাদকের যে অভিযান দিয়েছিলেন, সেটি প্রকৃতপক্ষে মাদক নির্মূলের জন্য করেননি। এটি ছিল লোক দেখানো অভিযান। মূলত এটি থেকে কোনো কমিশন পেতেন না বিধায় অভিযানটি চালিয়েছেন। কারণ, অভিযানটির পরে ইভান রিসোর্টে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি বন্ধ হলেও সতর্কতার সঙ্গে ব্যবসা চলমান থাকে।
‘বাগানবাজার গ্রাফ’-এর প্রতিনিধি পরিচয় গোপন রেখে ছদ্মবেশে মাদকসেবক সেজে ইভান রিসোর্টের মালিক ইউসুফকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, আবু মেম্বার কমিশনের জন্য অভিযান চালিয়েছিলেন। তাঁকে এখন চিঠির খামে করে মাস শেষে একটি কমিশন পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তাই তিনি এখন চুপ।
উল্লেখ্য যে, আবু মেম্বার গত ২৬ ফেব্রুয়ারি অভিযান চালানোর কালে জানান, আমাদের কাছে তথ্য আছে—এখানে প্রতিদিন ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার মাদক বিক্রি করা হয়। সে সঙ্গে আরও বলেন, আমাদের এমপি সাহেবের নির্দেশে এখানে তাদের সতর্ক করতে এসেছি। যদি পরবর্তীতে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে পুরো রিসোর্ট ভেঙে ফেলা হবে অথবা জ্বালিয়ে দেওয়া হবে।
একই সাথে হাসান – (বাগমারা বাড়ি), আবু মেম্বারের ভাগনির জামাই সাইফুল ইভান রিসোর্টে মাদক সরবাহ করে। আবু মেম্বারের ভাই মনির তাদের শুরু থেকে সেল্টার দিয়ে আসছেন।
তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—বাগানবাজারের নেতারা মাদকের বিরুদ্ধে যতই কথা বলুন, যতই দেখান অভিযান আর বিরোধিতা, নাকি আড়ালেই গড়ে তুলছেন মাদকের সাম্রাজ্য—নিজেরাই সেই কারিগর? উত্তরটা খুঁজে নেবে বাগানবাজারের মানুষই।