নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর গণশুনানির সুপারিশ অনুযায়ী ভৌগোলিকভাবে উপযুক্ত ও কেন্দ্রীয় স্থানে স্থাপনের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরালো হচ্ছে। এই দাবিতে শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় ফটিকছড়ির হেঁয়াকো বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও এক ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ।
‘ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শত শত মানুষ অংশ নেন। আন্দোলনকারীরা “যৌক্তিক স্থানে উপজেলা সদর চাই”, **”গণশুনানির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে”**সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সন্ধ্যায় হেঁয়াকো বাজার জিরো পয়েন্ট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত হেঁয়াকো বাজারে সড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা।
সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে টানা এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধের কারণে সড়কের দুই পাশে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে এবং এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হলেও আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের ন্যায্য দাবি আদায়ের স্বার্থেই তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছেন। পরে অবরোধ প্রত্যাহার করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, গত ৭ জুলাই ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা গেজেট প্রকাশের পরও এখন পর্যন্ত উপজেলা সদর দপ্তরের স্থান চূড়ান্ত হয়নি। তাদের দাবি, উপজেলা প্রশাসনের গণশুনানিতে নারায়ণহাট-দাঁতমারার মধ্যবর্তী ভৌগোলিকভাবে উপযুক্ত স্থান সদর দপ্তরের জন্য সবচেয়ে যৌক্তিক হিসেবে উঠে এসেছিল। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে অন্যত্র সদর দপ্তর স্থাপনের চেষ্টা করছে।
তাদের ভাষ্য, নতুন উপজেলা গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল উত্তরাঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় প্রশাসনিক সেবা পৌঁছে দেওয়া। সদর দপ্তর যদি জনগণের জন্য সুবিধাজনক ও কেন্দ্রীয় স্থানে না হয়ে অন্যত্র স্থাপন করা হয়, তাহলে নতুন উপজেলা গঠনের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে এবং সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হবে।
আন্দোলনকারীরা আরও বলেন, বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাটসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফলেই ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়িত হয়েছে। তাই গণশুনানির সুপারিশ উপেক্ষা করে কোনোভাবেই সদর দপ্তর নির্ধারণ করা হলে তা উত্তরাঞ্চলের মানুষের সঙ্গে অবিচার হবে।
তারা সরকারকে দ্রুত গণশুনানির সুপারিশ অনুযায়ী যথাযথ স্থানে উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পাশাপাশি আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।
এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামত দিন!