গত ৫ এপ্রিল ( রোববার ) সকাল প্রায় ১০টার দিকে দাঁতমারা ইউনিয়নের হেঁয়াকো পল্লী ডায়গনস্টিক সেন্টারের একটি কক্ষ থেকে রাশেদুল আনোয়ারের নিথর দেহ এবং তার সঙ্গী মো. আরমানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সকালে প্রতিষ্ঠানটি খোলার সময় একটি কক্ষ ভেতর থেকে বন্ধ পাওয়া গেলে বারবার ডাকাডাকির পরও সাড়া না মেলায় স্থানীয়রা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাদের উদ্ধার করেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে অচেতন অবস্থা থেকে সুস্থ হওয়ার পর মো. আরমানকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট ও সঙ্গতিপূর্ণ জবানবন্দি দিতে না পারায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরমানকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, রাত প্রায় ৩টা পর্যন্ত তারা বাজারে ঘোরাফেরা করেন। পরে পল্লী ডায়গনস্টিক সেন্টারে রাত্রিযাপনের জন্য গেলে তারা এলার্জি অনুভব করেন এবং ঘরে থাকা একটি ৫ লিটারের পানির বোতল থেকে পানি পান করে এলার্জির ট্যাবলেট সেবন করেন। এরপর থেকেই তারা অস্বস্তি অনুভব করতে থাকেন এবং পরবর্তী ঘটনার কিছুই তিনি মনে করতে পারেন না।
তবে তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাস্থলে ৫ লিটারের কোনো পানির বোতল পাওয়া যায়নি; সেখানে একটি ২ লিটারের বোতল ছিল। এছাড়া আরমান বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন বলেও পুলিশের দাবি।
এসব অসংলগ্ন ও পরস্পরবিরোধী তথ্যের কারণে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
স্থানীরা ধারণা করছেন, তাহারা ঐদিন রাতে একসাথে বিভিন্ন ধরনের ঔষুধ (সেডেটিভ) নেশার উদ্দেশ্যে সেবন করে। যার ফলে রাশেদ এর মৃত্যু ঘটে।
অন্যদিকে আরমানের চিকিৎসারত চিকিৎসকরা জানান, আরমানের মেডিকেল টেস্ট রিপোর্টে স্বাভাবিক ফলাফল পাওয়া গেছে। অন্যদিকে রাশেদের পরিবার এটিকে একটি পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবি করছে।