বাগানবাজার ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়জল হক সাকিবের অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। ইউনিয়ন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছায়াতলে থেকে সাকিব এখন শুধু একজন সাধারণ মাদক কারবারিই নন, বরং পুরো এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মূল হোতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। অনুসন্ধানে সাকিবের মাদক ও কিশোর গ্যাং সিন্ডিকেটের নতুন এবং আরও ভয়াবহ কিছু চিত্র সামনে এসেছে।
স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, রাজনৈতিক পরিচয় এবং একরামুল হক বাবুল চেয়ারম্যানের ভাই লায়েছের ছত্রছায়াকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সাকিব বর্তমানে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার মালিক বনে গেছেন। বাগানবাজার ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গার্ডের দোকান এলাকা এবং রামগড় চা বাগানের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় একচেটিয়া ইয়াবা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল পরিমাণ এই অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি।
তদন্তে জানা গেছে, সাকিবের অপরাধ সাম্রাজ্যের মূল চালিকাশক্তি বা পেশীশক্তি হলো তার বিশাল কিশোর গ্যাং। তার হুকুমে এলাকায় তাণ্ডব চালানো এবং আধিপত্য ধরে রাখতে বর্তমানে ৫০ – ১০০ জনেরও বেশি কিশোর-তরুণ এই গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, মাদক বাণিজ্য থেকে সাকিব যে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করছেন, তার একটি বড় অংশই তিনি ব্যয় করছেন এই বিশাল কিশোর গ্যাং পরিচালনার পেছনে। গ্যাংয়ের সদস্যদের ধরে রাখা, তাদের পেছনে নিয়মিত টাকা ও মাদক সরবরাহ করা এবং নিজের ক্যাডার বাহিনী হিসেবে তাদের টিকিয়ে রাখতেই সাকিবের আয়ের সিংহভাগ অর্থ উড়ছে।
সাকিব এখন আর কেবল খুচরা ইয়াবা বিক্রিতে সীমাবদ্ধ নেই; টেকনাফসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে আসা মাদকের বড় বড় চালান সরাসরি বাগানবাজারে নিয়ে আসছেন তিনি ও তার সহযোগীরা। সহযোগী আমির ও খুচরা বিক্রেতা রিপনের মাধ্যমে এই চালানগুলো বিভিন্ন পয়েন্টে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
একদিকে মাদকের বড় চালান এবং অন্যদিকে নিজের প্রভাব ধরে রাখার নেশায় সাকিব বাগানবাজার ও তার আশেপাশের এলাকার যুবসমাজকে এক অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। এলাকার অধিকাংশ যুব ও তরুণদের তিনি মাদক এবং নিষিদ্ধ ক্যাসিনো বা জুয়ার দিকে সুকৌশলে ধাবিত করছেন। এলাকার সচেতন মহলের মতে, সাকিবের প্রত্যক্ষ উসকানি ও প্রলোভনে পড়ে শত শত কর্মক্ষম যুবক এখন পরিবার এবং সমাজের বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সাকিবের এই ৫০-১০০ জনের গ্যাংয়ের কারণে গার্ডের দোকান ও নতুন বাজার রোড এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে। স্থানীয় একজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন:
“সাকিবের কিশোর গ্যাংয়ের কোনো ছেলের দিকে তাকালেও তারা এসে মারধর করে, হুমকি দেয়। এদের পেছনে বড় অংকের টাকা খরচ করা হয়, তাই এরা সাকিবের জন্য যেকোনো অপরাধ করতে প্রস্তুত থাকে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বাগানবাজার বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।”