ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলায় সুয়াবিল ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্তির বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে দায়ের করা এক রিটের শুনানি শেষে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল নিশি জারি করেছেন আদালত।
গত ২০ জুলাই ২০২৬ বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেন-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বিএনপি নেতা এস. এম. শফিউল আলম কর্তৃক দায়ের করা রিট পিটিশন নং- ৯৭১৫/২০২৬-এর শুনানি শেষে আদালত জানতে চান, ‘ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা’ থেকে সুয়াবিল ইউনিয়নকে কেন বাদ দেওয়া হবে না কিংবা কী কারণে সুয়াবিল ইউনিয়নকে নতুন উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আদালত রুলে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের ৪ সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
রিটে প্রধান বিবাদী করা হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, ফটিকছড়ি ও ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ইউএনও, স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ মোট ১১ জনকে।
এছাড়া সুয়াবিল ইউনিয়নের বাসিন্দা প্রফেসর মো. মনজুরুল কিবরীয়া ও সৈয়দ মোহাম্মদ ফরিদ-কে মোকাবেলা বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রিটে ৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন, ৮ জুলাই প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেট, ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত উপজেলা গঠনসংক্রান্ত স্মারক এবং ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা স্মারককে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
আদালত রুলে জানতে চেয়েছেন, নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলায় সুয়াবিল ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্তিকে কেন আইনানুগ কর্তৃত্ববিহীন ও আইনগতভাবে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি রিটকারীদের সাত দিনের মধ্যে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ও রেজিস্টার্ড ডাকযোগে প্রতিপক্ষদের ওপর নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রিটকারীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, সাবেক বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়জী এবং অ্যাডভোকেট মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) মোহাম্মদ জিশান হায়দার, মো. আসিফ ইমরান (জিসান), রুহুল আমিন সিকদার, রাকিব হোসেন এবং মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন মনির।
উল্লেখ্য, ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা ঘোষণার পর থেকেই সুয়াবিল ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্তি এবং উপজেলা সদর দপ্তরের স্থান নির্ধারণ নিয়ে উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক আলোচনা ও আন্দোলন চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিষয়টি এবার বিচারিক প্রক্রিয়ায়ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামত দিন!