বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
মাদক ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিএনপি নেতা রিনা মেম্বার ও আবু মেম্বারের ভাই মনিরের যৌথ প্রযোজনায় পরিচালিত হয় বাগানবাজারের ইভান রির্সোট এর মাদক ও দেহব্যবসা

বাগানবাজার গ্রাফ নিউজ ডেস্ক

গতকাল সন্ধ্যায় বাগানবাজার ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড বড়বিল সংলগ্ন ইভান রিসোর্টে ইউনিয়ন বিএনপি-র উপদেষ্টা আবুল হোসেন আবু উরফে আবু মেম্বার- র নেতৃত্বে সামাজিকভাবে অভিযান চালায়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় সন্ধ্যায় একজন মাদক সেবককে বড়বিল বাজারে স্থানীয় লোকজন গাঁজাসহ আটক করেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায় সে স্বীকার করে সে এই গাঁজা ইভান রিসোর্ট থেকে সেবন এর জন্য ক্রয় করে। তারই সূত্রপাত ধরে আবু মেম্বারের নেতৃত্বে এই অভিযান হয়। অভিযানটি সরাসরি ফেসবুকে সম্প্রচার করা হয় এবং রিসোর্ট মালিক ইউসুফ কে জিজ্ঞাসাবাদ তার এই ব্যবসায়ের সাথে জড়িত থাকার ব্যাপারে সে স্বীকার করে।

কিন্তু বাগানবাজার গ্রাফ-এর অনুসন্ধানে এসেছে আরো ভিন্ন তথ্য- ইউসুফ বাগানবাজার বিএনপির অঙ্গ সংগঠন মসৎদলের নেতা। তার এই ব্যবসার সাথে জড়িত ওয়াদুদ ভূইয়ার শ্বাশুরি নামে খ্যাত বাগানবাজারের রিনা মেম্বার ও আবু মেম্বার এর ভাই মনিরুল ইসলাম দুজনই ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি। এই দুজন প্রশাসন ও স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করে থাকেন ইভান রিসোর্টকে। পাশাপাশি মনিরুল ইসলামের মাধ্যমে সাইফুল- (আবু মেম্বারের ভাগনির জামাই) সরাসরি ইউসুফকে যিনি ইভান রিসোর্ট মালিক তাকে পাইকারি দামে মাদক সরবাহ করে থাকে।

স্থানীয়দের দাবি এখানে শুধু মাদক এর ব্যবসা নয় এখানে নারীদের দিয়েও দেহ ব্যবসাও করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউসুফ এর খুব কাছের সহযোগী আমাদের জানান, এখানে ব্যবসাটা পরিচালিত হয় রিনা মেম্বার ও মনির এর সহযোহীতায়। রিনা মেম্বার আঁধার মানিক রাস্তার মাথার কলোনীপাড়ার এক হিন্দু মহিলা বকুলী- র মাধ্যমে খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা থেকে বিভিন্ন মেয়েদের এখানে এনে ব্যবসা করায়।

স্থানীয় আরেকজন জানান, এই রিসোর্টটা যখন চালু হয় তখন থেকেই আমরা— এখানে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সেক্রেটারী সোহাগ, হাসান – (বাগমারা বাড়ি), আবু মেম্বারের ভাগনির জামাই সাইফুল কে আসা যাওয়া করেতে দেখে আসছি। তাদের সাথে কয়েকজন বহিরাগত লোক থাকতো, এই বহিরাগতরা মূলত তাদের কাস্টমার। তারা প্রথমে এখানে রিসোর্ট ব্যবসার আড়ালে মাদকের ব্যবসা শুরু করে। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে দেহ ব্যবসা শুরু করেন। তিনি আরো জানান এখানে ট্রাকের ড্রাইভার থেকে শুরু করে ছোট বড় অনেক পেশার মানুষ এর যাতায়ত রয়েছে।

তিনি আরো জানান এই বিষয়টা এলাকার সর্দ্দার থেকে শুরু করে সমাজের মুরব্বিদের অনেককেই জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে নাই এবং দেখেও না দেখার ভন করে রয়েছে । কারণ এখানে যারা ব্যবসা করে তারা সবাই রাজনৈতিক ক্ষমতা দেখিয়ে সবাইকে চুপ করে রাখছে। এখানে কাকে কি বলবো? এখানে সবাই আবু মেম্বারের ঘরের লোক। তাই আমরা প্রতিবাদ করতে চাইলেও প্রতিবাদ করতে পারি না।

আবু মেম্বার অভিযান চালানোকালে জানান আমাদের কাছে তথ্য আছে এখানে প্রতিদিন ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার মাদক বিক্রি করা হয়। সে সাথে আরো বলেন আমাদের এমপি সাহেবের নির্দেশে এখানে তাদের সর্তক করতে এসেছি। যদি পরবর্তীতে কোন অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে পুরো রিসোর্ট ভেঙ্গে ফেলা হবে অথবা জ্বালিয়ে দেওয়া হবে।

যদিও স্থানীরা মনে করেন, এই অভিযান বা পদক্ষেপে আহামারি কোনো পরিবর্তন হবে না, কারণ এখানে যারা জড়িত তারা সবাই উনার আত্মীয়-স্বজন। তারপরও তারা আশাবাদী। তারা দেখতে চায় আসলে তিনি মাদকের ব্যাপারে লোক দেখানো অভিযান চালাচ্ছেন নাকি বাগানবাজারের পরিবর্তনের জন্য, সেটি সময়-ই বলে দিবে।


Ad Banner (300x250)
Ad Banner (300x250)
Ad Banner (300x600)