চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির উত্তরাঞ্চলকে নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের দাবিতে আন্দোলন নতুন গতি পেয়েছে। আগামী ১ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম সভায় ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা গঠনের প্রস্তাব আলোচ্যসূচিতে থাকায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, নতুন উপজেলা গঠন করা হলেও এর প্রশাসনিক সদর দপ্তর অবশ্যই উত্তর ফটিকছড়ির ভৌগোলিকভাবে উপযুক্ত ও জনগণের জন্য সুবিধাজনক স্থানে স্থাপন করতে হবে। এই দাবিকে সামনে রেখে আজ (৩০ জুন) একটি গণ-সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন অ্যাডভোকেট মিজান চৌধুরী। তিনি উত্তর ফটিকছড়ির উন্নয়নের দাবিতে দীর্ঘদিনের আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে বর্তমান আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৪ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে উত্তর ফটিকছড়ির উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি ছাত্রদের নিয়ে একটি আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন। সে সময় উত্তর ফটিকছড়ির ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘উত্তর ফটিকছড়ি উন্নয়ন পরিষদ’ নামে একটি ছাত্র কমিটি গঠন করা হয়। তখন বর্তমানের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা স্মার্টফোন না থাকলেও তিনি সাইকেলে করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, সেই সময়ের আন্দোলনে যুক্ত অনেকেই বর্তমানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ ২২ বছর পর উত্তর ফটিকছড়ির নতুন প্রজন্ম আবারও নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক।
অ্যাডভোকেট মিজান চৌধুরী ঢাকা থেকে আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাটসহ উত্তর ফটিকছড়ির সর্বস্তরের মানুষকে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে ৩০ জুনের গণ-সমাবেশ সফল করার আহ্বান জানান।
এদিকে স্থানীয় আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, উত্তর ফটিকছড়ির মানুষের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ভোগান্তি দূর করতেই নতুন উপজেলার দাবি। তবে উপজেলা সদর যদি জনগণের সুবিধাজনক ও যৌক্তিক স্থানে স্থাপন না করা হয়, তাহলে এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে বলেও তারা মনে করছেন।
আগামী ১ জুলাই নিকার সভায় এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেদিকে এখন উত্তর ফটিকছড়ির মানুষের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামত দিন!