ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার বাগানবাজার ইউনিয়নের রাজারঘাট এলাকায় পারিবারিক সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে শাহআলম নামে এক ব্যক্তির ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তাঁর পেটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজারঘাট এলাকার বাসিন্দা আবদুল বারেক সর্দার দীর্ঘদিন বৃহত্তর লালমাই সমাজের সর্দার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর কোনো সন্তান ছিল না। মৃত্যুর আগে তিনি তাঁর ভাতিজা শহিদুল ইসলামকে আনুমানিক আধা কানি বসতভিটা দিয়ে যান বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। পরবর্তীতে বারেক সর্দারের অবশিষ্ট সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন তাঁর স্ত্রী।
স্থানীয়দের দাবি, বারেক সর্দারের স্ত্রীও পরবর্তীতে মারা যান। জীবিত থাকা অবস্থায় তাঁকে তাঁর দেবরের ছেলেরা দেখাশোনা করতেন। শহিদুল ইসলাম ও হামলায় আহত শাহআলমও তাঁর দেখাশোনায় সহযোগিতা করতেন বলে স্থানীয়রা জানান।
বারেক সর্দারের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকেই সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে তাঁর ভাতিজাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু, জসিম, আংকুর মিয়া, ছাত্তার মেম্বারসহ কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি একাধিকবার বৈঠক করলেও পূর্ণাঙ্গ সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলার কয়েক দিন আগে মৃত বারেক সর্দারের ছোট ভাই আবদুল ছাত্তার (ছাবুর)–এর ছেলেরা বিরোধপূর্ণ জমিতে হালচাষ করতে গেলে বর্তমান সর্দার হাকিম সর্দারের ছেলেরা বাধা দেন। এ সময় দুই পক্ষের লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে সেখানে জড়ো হন এবং কথা-কাটাকাটির পর নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান বলে স্থানীয়দের দাবি।
এরপর কয়েক দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল বলে জানান তাঁরা।
দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে হামলার অভিযোগ
স্থানীয়দের ভাষ্য, এর কয়েক দিন পর (গত ১৬ই আগস্ট- রবিবার ) রাজারঘাটের একটি দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে শাহআলমকে একা পেয়ে আবদুর রহিম নামে তাঁর এক চাচাতো ভাই ধারালো অস্ত্র দিয়ে পেটে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এতে শাহআলম গুরুতর আহত হন এবং তাঁকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, অভিযুক্ত আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ আরও অভিযোগ করেছেন, আবদুর রহিম বর্তমানে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সমর্থন বা আশ্রয়-প্রশ্রয় পাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে ছাত্তার মেম্বার ও মোতালেব হোসেন মোতার নামও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে।
পরিবারকে হুমকির অভিযোগ
আহত শাহআলমের পরিবারের দাবি, হামলার ঘটনার পরও অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পক্ষের লোকজন তাঁদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন। এতে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে এবং এরই মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামত দিন!