আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বাগানবাজার ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থী নূর-নবীর ভাগিনা রাজুর বিরুদ্ধে ইয়াবা সেবনে বাঁধা দেওয়ায় এক বয়স্ক মহিলার গলা কেটে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী জানান তার একটি ঘরে পরিত্যাক্ত ঘরে রাজুকে নিয়মিত আসা-যাওয়া করতে দেখেন এবং ঘরের ভিতরে প্লাস্টিকের বোতলে প্রসাব করে রেখে যান। সেই পরিপেক্ষিতে সন্দেহ তৈরি হয় ভদ্র মহিলার। যখন তিনি সরাসরি রাজুকে ইয়াবা সেবন করতে দেখে তখন তাকে রাজু ঘাড়ে ধরে বলেন কারোর কাছে বললে তাকে গলা কেটে দিবে।
একই সাথে ঐ মহিলা জানান, অন্যদিকে রাজুসহ তার আরো আটজন সহযোগী আমীর, খোকা, কাজল, আলাউদ্দিনসহ সির্দারখীলের নাম না জানা আরো ৪জনকে নিয়মিত ঐ পরিত্যাক্ত বাড়িতে নিয়মিত আসা যাওয়া করতে দেখা যায়। স্থানীয় বিলকিস মিয়া নামক এক ব্যাক্তি তাকে ঐ পরিত্যাক্ত বাড়িতে আসা-যাওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ তাকেও গলা কেটে দেওয়ার হুমকি দেয় রাজু।
বাগানবাজার মাদকের জটিল নেটওয়ার্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র মোঃ নূর নবী। তিনি ফটিকছড়ি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। কিন্তু তার অতীত ও বর্তমানের মধ্যে রয়েছে এক বিস্ময়কর রূপান্তর, যা স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ই আগস্টের আগে নূর নবী ছিলেন একজন সাধারণ সহকর্মী, যিনি মৃত মানিক ডাক্তারের বাড়িতে কাজ করতেন। যদিও তিনি দাবি করেন, তিনি গাছ ও ফার্নিচারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে- একসময় সংসার চালাতে হিমশিম খাওয়া ব্যক্তি এখন নির্মাণ করছেন রাজকীয় বাড়ি। এই আকস্মিক উত্থানের সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি।
নূর-নবীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে একটি বিস্তৃত মাদক সাম্রাজ্য, যেখানে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে সক্রিয় রয়েছে একাধিক ব্যক্তি। এই তালিকায় রয়েছেন- আনিছ ড্রাইভার (০৬ নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি), হাতি ফরিদ, রিয়াদ হোসেন, মোঃ হোসেন, আব্দুস সালাম, জসিম উদ্দিন (বাগানবাজার শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক), চোরা শাহাজাহান (পূর্বে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত, বর্তমানে বিএনপি), ইদ্রিস আলী এবং তার ভাগিনা মোঃ রাজু।
রাজুর গল্প যেন আরও রহস্যময়- একসময় সেনাবাহিনীর সদস্য, পরে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে চাকরিচ্যুত হয়। এরপর এলাকায় ফিরে নূর নবীর নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে নতুন ভূমিকায় আবির্ভাব। অন্যদিকে, লোকমানের ভাতিজা শাহিন এই চক্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে কাজ করছে।
এই নেটওয়ার্কের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ নয় শুধু স্থানীয় পর্যায়ে। অভিযোগ রয়েছে, ভারতীয় সীমান্ত থেকে নিয়মিত মাদকদ্রব্য আনা হয় এবং তা বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ‘সেল্টার’ প্রদান করেন ৮নং ওয়ার্ড এর সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থী মোঃ আবুল কাশেম মেম্বার এবং ৫নং ওয়ার্ড এর মেম্বারপ্রার্থী মাদকাসক্ত লোকমান।
এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামত দিন!