বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
অপরাধ ২৪ মে ২০২৬

হেয়াকো বাজারের ব্যবসায়ী মেসার্স শরিফ কৃষি বিতানের স্বত্বাধীকারের লাশ উদ্ধার বাগানবাজারের ধানের জমি থেকে

বাগানবাজার গ্রাফ নিউজ ডেস্ক

বাগানবাজার এলাকায় ধানের জমি থেকে শরীফ নামের এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ সকাল ১১টার দিকে বাগানবাজার স্টিল ব্রিজের পাশে এবং শ্মশান সংলগ্ন ধানের জমি থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। নিহত শরীফ হেয়াকো বাজারের ‘শরীফ কৃষি বিতান’-এর মালিক এবং দাঁতমারা ইউনিয়নের ৯ নং অলিপুর গ্রামের বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞাত কোনো কারণে হেয়াকো বাজারের ব্যবসায়ী শরীফের সাথে ‘মুন্সি ড্রাইভার’-এর ছেলেদের তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে মুন্সি ড্রাইভারের ছেলেরা এবং স্থানীয় ‘নূর হোসেন’ নামের এক ব্যক্তির মেয়েজামাই ও কাসেম এর ছেলে সাকিবসহ বেশ কয়েকজন মিলে শরীফকে লাঠিসোটা দিয়ে মারধর শুরু করে। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে শরীফ দৌড়ে ধানের জমির পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন।

পুকুরে থাকা অবস্থায়ও হামলাকারীরা তাকে রেহাই দেয়নি। ওপর থেকে তাকে লক্ষ্য করে বড় বড় ইট ছুড়ে মারা হয়, যা সরাসরি তার বুকে আঘাত করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুকুর থেকে শরীফ বারবার আকুতি জানিয়ে বলছিলেন, “ভাই, আমি কিছু করিনি, আমাকে ছেড়ে দিন।” তিনি তৃষ্ণার্ত হয়ে একটু খাওয়ার পানি চাইলেও কেউ তাকে পানি দেয়নি।

পরবর্তীতে তিনি পুকুর থেকে উঠে প্রাণভয়ে আবারও দৌড় দিলে হামলাকারীরা তাকে ধাওয়া করে ধানের ক্ষেতের মাঝখানে ধরে ফেলে। সেখানে তাকে পুনরায় নির্মমভাবে মারধর করা হলে বুক ও পিঠে গুরুতর আঘাত পেয়ে তিনি মাটিতে ঢলে পড়েন। ধারণা করা হচ্ছে, এই গণপিটুনির আঘাতেই মাঠেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা শরীফকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উদ্ধারের সময় লাশের পাশে একটি হেলমেট, একটি ব্যাগ এবং একটি ছোট ছুরি পাওয়া যায়। স্থানীয়দের ধারণা, হামলাকারীদের হাত থেকে আত্মরক্ষার জন্য তিনি হয়তো ছুরিটি সাথে রেখেছিলেন। তবে রহস্যজনকভাবে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ এবং টাকা-পয়সার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি এর পেছনে ছিনতাই বা ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, শরীফ ধানের জমিতে ঢলে পড়ার পর ডা: জয়লাল নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি তাকে বুঝিয়ে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। এলাকার অনেক নারী ঘটনাটি সরাসরি দেখলেও হামলাকারীদের ভয়ে স্থানীয় কেউ মুখ খুলতে বা সত্য স্বীকার করতে সাহস পাচ্ছে না। পুরো এলাকায় বর্তমানে একটি থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

খবর পেয়ে নিহতের পরিবার রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যায়। নিহতের ভাই ফরিদ জানান, শরীফ দীর্ঘদিন ধরে কিছুটা মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। আজ সকালে তিনি মোটরসাইকেল ছাড়াই শুধু একটি হেলমেট ও ব্যাগ নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এর কয়েক ঘণ্টা পর তারা মৃত্যুর খবর পান।

হাসপাতালের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে নিহতের পরিবার প্রাথমিকভাবে স্ট্রোকের কথা উল্লেখ করলেও, শরীরে ও বুকে আঘাতের কারণে মৃত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করার জন্য লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

এই বিষয়ে ডা: জয়নাল বলেন, পুকুর থেকে আমি সযত্নে উদ্ধার করে বাজারের দিকে নিয়ে যাইতেছিলাম যখন  সে যেদিক থেকে আসছে আবার ওদিকে দৌড়তে থাকে শারীরিক সক্ষমতার কাছে আমি ধরে রাখতে পারিনি। আমার হাত থেকে ছুটে  দৌড় দে  শ্মশানের কাছে জমিনে গিয়ে পড়ে  পড়লে। আমি তাকে অনেক চেষ্টা করেও উঠানোর জন্য কিন্তু পারিনি। ওয়ার্ড মেম্বার এবং চৌকিদার বুলুকে জানালে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ আসে। আমি এবং সুমন মেম্বার রামগড় হাসপাতালে নিয়ে যাই। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে স্টকেজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে জানে। 


Ad Banner (300x250)
Ad Banner (300x250)
Ad Banner (300x600)