৪ নম্বর ওয়ার্ডের বটটিলা এলাকায় ৭২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে কুপিয়ে স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অনলাইন জুয়ার নেশায় আসক্ত হয়ে টাকার সংকটে পড়েই সে এই নৃশংস হামলা চালিয়েছে।
গত ২৭ জুন দিবাগত রাতে বর্তমান ইউপি সদস্য সাত্তার মেম্বারের চাচী আনোয়ারা বেগম (৭২) লালমাই পশ্চিমপাড়ায় মেয়ের বাড়ি থেকে নিজ বাড়ি, লালমাই সুলতানিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় ফেরার পথে বটটিলা এলাকায় হামলার শিকার হন। তিনি দুবাই প্রবাসী সাদ্দাম, সৌদি প্রবাসী ইলিয়াস এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত নোমানের মা ও দাদী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে তিনি লালমাই পশ্চিমপাড়ায় অবস্থিত তার মেয়ের বাড়ি থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে একা রওনা দেন। পথে বটটিলা এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। গভীর রাতে পথরোধ করে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপ দেয়। পরে তার গলায় থাকা স্বর্ণালংকার ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় প্রায় চার ঘণ্টা ঘটনাস্থলে পড়ে থাকার পর ভোরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার পর থেকেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। আজ ভুক্তভোগীর ছেলেরা মোস্তাফিজুর রহমানকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লালমাই পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা আলী আক্কাসের ছেলে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোস্তাফিজুর রহমান বৃদ্ধাকে কুপিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে চিকিৎসাধীন আনোয়ারা বেগমও তাকে হামলাকারী হিসেবে শনাক্ত করেছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মোস্তাফিজুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত। জুয়ার টাকার জন্যই তিনি এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে তাদের ধারণা। তারা আরও জানান, প্রায় এক মাস আগে টাকার জন্য তিনি নিজের বাবাকেও মারধর করেছিলেন বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, অনলাইন জুয়ার নেশার কারণে তিনি প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের কাছে টাকা চাইতেন এবং এ নিয়ে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হতো।
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আনোয়ারা বেগম বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থার আগের তুলনায় উন্নতি হয়েছে এবং তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিতে সক্ষম হয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বটটিলা ও আশপাশের এলাকায় অনলাইন জুয়া ও মাদকসেবীদের তৎপরতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের দাবি, অনলাইন জুয়ার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়তে পারে।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলার তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সংবাদটি হালনাগাদ করা হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামত দিন!