চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের হেয়াকো বাজার সংলগ্ন চৌধুরীপাড়ায় স্বামীর পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত রিতু (ডাকনাম) প্রায় ১০ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে ও পারিবারিক মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ৯ আগস্ট (রবিবার) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে। নিহত রিতু স্থানীয় ব্যবসায়ী বুতু সওদাগরের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম সানির স্ত্রী। তাদের সংসারে প্রায় ৮ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম সানি ও রিতুর পরিচয় হয় দশম শ্রেণিতে পড়াকালীন। দীর্ঘ প্রেমের সম্পর্কের পর তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রায় এক দশকের সংসারজীবন স্বাভাবিকভাবে চললেও সম্প্রতি জাহাঙ্গীর আলম অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর জাহাঙ্গীর আলম বাড়ি ছেড়ে ওই নারীকে চট্টগ্রামের একটি কাজী অফিসে বিয়ে করেন। পরে তারা কক্সবাজারে অবস্থান করেন। এ ঘটনায় রিতু মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পরিবারের পক্ষ থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে স্ত্রীকে নিয়ে কক্সবাজারে ঘুরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার থেকে ফিরে কিছুদিন একসঙ্গে থাকলেও পরে জাহাঙ্গীর আলম পুনরায় চট্টগ্রামে চলে যান। এরপর ওই রাতেই নিজ ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন রিতু। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় নিহতের শ্বশুর বুতু সওদাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শাশুড়ি ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। পরে স্বামী জাহাঙ্গীর আলম সানি নিজেই থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, নিহতের ৮ বছর বয়সী কন্যা শিশুর প্রাথমিক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, ঘটনার রাতে তার মা দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোনে বাবার সঙ্গে কথা বলেন এবং একপর্যায়ে কাঁদছিলেন। গভীর রাতে ঘুম থেকে উঠে সে মাকে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, নিহতের বাবার বাড়ি ঢাকায়। ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ফটিকছড়িতে এসে মরদেহ নিয়ে যান। তবে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সংবাদ লেখা পর্যন্ত মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়নি।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে স্বামী জাহাঙ্গীর আলম সানি, শ্বশুর বুতু সওদাগর ও শাশুড়িকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি আত্মহত্যায় প্ররোচনাসহ সংশ্লিষ্ট অভিযোগের দিক বিবেচনায় তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামত দিন!