গণশুনানির সুপারিশ অনুযায়ী নারায়ণহাট-দাঁতমারার মধ্যবর্তী স্থানে উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার সদর দপ্তর স্থাপনের বিষয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত দাবি করেছেন উত্তরাঞ্চলের সর্বস্তরের প্রতিনিধিরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি আরও জোরদারের পাশাপাশি কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উত্তর ফটিকছড়ির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. ইউসুফ আলম মাসুদ, অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সরকারের ১২১তম নিকার (NICAR) সভায় দেশের ৫০১তম উপজেলা হিসেবে উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার অনুমোদন উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও ন্যায্য দাবির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। এ জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
বক্তারা বলেন, বর্তমান উপজেলা সদর থেকে দীর্ঘ দূরত্বের কারণে উত্তরাঞ্চলের মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসনিক সেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছেন। এ বাস্তবতায় বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট ও ভূজপুর ইউনিয়নকে নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের দাবি ওঠে এবং এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন গণশুনানির আয়োজন করে।
তাদের অভিযোগ, গণশুনানির পরও দক্ষিণাঞ্চলের হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়নকে নতুন উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে ওই দুই ইউনিয়নের জনগণের মতামত নেওয়া হয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভূজপুরে উপজেলা সদর স্থাপনের লক্ষ্যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। বক্তাদের দাবি, দূরত্ব, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আয়তন এবং রাজস্ব আয়ের দিক থেকে ভূজপুর উপজেলা সদর হওয়ার যৌক্তিকতা নেই। বর্তমানে ফটিকছড়ি উপজেলা সদর থেকে ভূজপুরের দূরত্ব প্রায় ৯ কিলোমিটার হলেও বাগানবাজার থেকে ভূজপুরের দূরত্ব প্রায় ৩৮ কিলোমিটার। ফলে ভূজপুরে সদর দপ্তর স্থাপন করা হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে না এবং প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মূল উদ্দেশ্যও ব্যাহত হবে।
বক্তারা আরও বলেন, ফটিকছড়ি উপজেলার মোট আয়তন প্রায় ৭৭৩ বর্গকিলোমিটার, যার মধ্যে উত্তরাঞ্চলের আয়তন প্রায় ৩০১ বর্গকিলোমিটার। এ অঞ্চলে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের বসবাস এবং প্রায় সোয়া লাখ ভোটার রয়েছেন। এত বড় জনগোষ্ঠীর ন্যায্য প্রত্যাশা উপেক্ষা করা উচিত হবে না।
তারা আরও দাবি করেন, উপজেলা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুয়াবিল ইউনিয়নকে আগে ভূজপুর থানা এলাকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাবেও ইউনিয়নটি উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পরে একটি মহলের প্রভাবে ইউনিয়নটি নতুন উপজেলায় যুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গণশুনানির সুপারিশ অনুযায়ী নারায়ণহাট-দাঁতমারার মধ্যবর্তী স্থানে উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার সদর দপ্তর স্থাপনের বিষয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যথায় শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি আরও জোরদারের পাশাপাশি কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাকিবুল আলম চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট, বিজিএমইএ; ওসমান গণি মজুমদার, আহ্বায়ক, উত্তর ফটিকছড়ি নাগরিক ফোরাম; আব্দুল জব্বার, খাইরুল খোমেনি, অ্যাডভোকেট শাহজাহান সিরাজ, খালেদুল আনোয়ার, অ্যাডভোকেট কায়সার হামিদ, আব্দুল্লাহ আল নোমান, শাহেদুল আলমসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামত দিন!