২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর বৃহত্তর ফটিকছড়ির কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হতাশাজনক ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মেজবা উদ্দিন। সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি উত্তর ফটিকছড়ির কয়েকটি বিদ্যালয়ের ফলাফল বিশ্লেষণ করে শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দুর্বলতা তুলে ধরেন এবং জবাবদিহিতা ও কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, বৃহত্তর ফটিকছড়িতে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫৭.৫৪ শতাংশ হলেও উত্তরাঞ্চলের শান্তিরহাট, চিকনছড়া, মির্জারহাট, হাসনাবাদ, দাঁতমারা, রসুলপুর, গজারিয়া ও নারায়ণহাট এলাকার কয়েকটি বিদ্যালয়ের পাসের হার প্রায় ৩০ শতাংশের আশপাশে বা তারও নিচে নেমে এসেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি আরও বলেন, নারায়ণহাট বালিকা বিদ্যালয়ে তিনজন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউই পাস করতে পারেনি। তবে এই বিদ্যালয় সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন, এটি সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত নয় এবং দীর্ঘ দুই দশক ধরে ব্যক্তি উদ্যোগ ও সীমিত আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত হয়ে আসছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সংকটে থাকা এই প্রতিষ্ঠানের ফলাফল নিয়ে কঠোর মন্তব্য করার সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত এবং শিক্ষক-পরিচালনা কমিটি থাকা বিদ্যালয়গুলোর দুর্বল ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মেজবা উদ্দিন। তার মতে, এসব প্রতিষ্ঠানে কোথায় সমস্যা রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকদের খুঁজে বের করতে হবে।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে লেখেন, শিক্ষকদের যোগ্যতার ঘাটতি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ, দায়িত্বে অবহেলা কিংবা পরিচালনা কমিটির নিষ্ক্রিয়তার মতো কারণগুলো ফলাফলের অবনতির পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগের ভাষায় বলেন, কোথাও কোথাও কাগজে-কলমে শিক্ষক থাকলেও বাস্তবে দায়িত্ব পালনে ঘাটতি থাকতে পারে এবং সরকারি অনুদানের যথাযথ ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কার্যকর মনিটরিং টুল বা মূল্যায়ন ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃত কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিচালনা কমিটির সঙ্গে প্রশাসনিক বিষয় নিয়েই ব্যস্ত থাকেন, অথচ শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান পর্যবেক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাবেক এই অতিরিক্ত সচিবের মতে, পরিচালনা কমিটিগুলো যদি পক্ষপাতহীনভাবে দায়িত্ব পালন করে এবং অযোগ্য বা দায়িত্বজ্ঞানহীন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়, তাহলে শিক্ষার মান উন্নয়ন সম্ভব। তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকারি অনুদান পাওয়া সত্ত্বেও যদি কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার মান নিশ্চিত না হয় এবং ফলাফলের উন্নয়ন না ঘটে, তাহলে ভবিষ্যতে অনুদান বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে, যা সংশ্লিষ্ট এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের সংকট ডেকে আনবে।
পোস্টের শেষাংশে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক, পরিচালনা কমিটি এবং শিক্ষা প্রশাসন বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতে আরও ভালো ফলাফল নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামত দিন!