চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার উত্তর দাঁতমারা থেকে চট্টগ্রাম শহরে পাচারের সময় ২ হাজার ৮৫০ কেজি চোরাই ভেজা রাবারসহ একটি ট্রাক উল্টে ধানক্ষেতে পড়েছে। তবে এ ঘটনায় ট্রাকচালকসহ পাচারকারী চক্রের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে দাঁতমারা এলাকার ঢালার মুখে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে ক্রেনের সাহায্যে ট্রাকটি উদ্ধার করে জব্দ করা রাবারসহ ভূজপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
দাঁতমারা রাবার বাগানের ডেপুটি ম্যানেজার রুহুল আমিন জানান, খবর পেয়ে সোমবার রাতেই তাঁরা ঘটনাস্থলে যান। রাতে ট্রাকটি উদ্ধার করা সম্ভব না হওয়ায় মঙ্গলবার দুপুরে ক্রেন এনে ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়। পরে ট্রাকে থাকা ২ হাজার ৮৫০ কেজি ভেজা রাবার জব্দ করে ট্রাকসহ ভূজপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ ঘটনার পর উত্তর ফটিকছড়ির বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি রাবার বাগান থেকে দীর্ঘদিন ধরে রাবার চুরির অভিযোগও নতুন করে সামনে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও পরিচয় ব্যবহার করে কয়েকটি পৃথক সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাবার বাগান থেকে চোরাই রাবার সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় পাচার করছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এসব চক্রের সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং অভিযুক্তরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এদিকে, বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, বাগান-সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায়ও রাবার পাচারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক রাবার বাগান কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কথিত রাজনৈতিক সিন্ডিকেট কিংবা বাগানের অভ্যন্তরীণ কারও সম্পৃক্ততার বিষয়ে তাঁরা মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ভূজপুর থানার ওসি বিপুল চন্দ্র দে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চোরাই রাবারের আলামত জব্দ করে দাঁতমারা তদন্ত কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে মামলা করা হবে।
পাচারচক্রের বিষয়ে ওসি বলেন, ট্রাকচালককে আটক করা গেলে তাঁর কাছ থেকে রাবার পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এর মাধ্যমে চক্রটির মূল হোতাদের শনাক্ত করা সহজ হবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দাঁতমারা, বাগানবাজারের হেঁয়াকো, নারায়ণহাটসহ উত্তর ফটিকছড়ির বিভিন্ন রাবার বাগান থেকে রাবার চুরি ও পাচার বন্ধে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। তাঁদের মতে, শুধু ট্রাকচালক বা পরিবহনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে পুরো চক্রের কার্যক্রম বন্ধ হবে না। রাবার চুরি, সংগ্রহ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে এবারের ঘটনায় ২ হাজার ৮৫০ কেজি চোরাই রাবার উদ্ধার হলেও এখনো স্পষ্ট নয়—রাবারগুলো কোন বাগান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, কারা সংগ্রহ করেছিল, কোথায় নেওয়া হচ্ছিল এবং এর পেছনে কারা জড়িত। ট্রাকচালককে আটক ও লিখিত অভিযোগের পর তদন্তে এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামত দিন!