আপনি কি লগআউট করতে চান?
এখন থেকে ব্রাউজার খোলার ঝামেলা ছাড়াই — সরাসরি হোম স্ক্রিন থেকে এক ট্যাপে সব খবর পড়ুন।
হোম স্ক্রিনে যোগ করতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
অ্যাপ ডাউনলোড করতে এটি Chrome ব্রাউজারে খুলতে হবে। নিচের বাটনে ট্যাপ করুন — Chrome খুললে সেখানে আরেকবার "ডাউনলোড করুন" বাটনে চাপ দিলেই হয়ে যাবে।
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর উত্তর ফটিকছড়ির শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের ফলাফল এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার করণীয় নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেছেন উত্তর ফটিকছড়ি নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক মু. ওসমান গনি মজুমদার।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি উত্তর ফটিকছড়ির উন্নয়নের সঙ্গে শিক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, শুধু একটি নতুন উপজেলা গঠন কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়নই একটি অঞ্চলের প্রকৃত অগ্রগতির চাবিকাঠি নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে একটি সুশিক্ষিত, দক্ষ, মানবিক ও সচেতন প্রজন্ম গড়ে তোলাই হতে পারে উত্তর ফটিকছড়ির সবচেয়ে বড় শক্তি।
তিনি লেখেন, “শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড”—এই সত্য আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। কিন্তু আজ সময় এসেছে আরও একটি কথা দৃঢ়ভাবে বলার—‘সুশিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড।’
এসএসসি ও সমমানের ফলাফল প্রকাশের পর প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন—ফলাফল প্রকাশের কয়েকদিনের আলোচনা ও উদ্বেগ কি সেখানেই শেষ হয়ে যাবে, নাকি পুরো বছরজুড়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে?
তার মতে, একটি ভালো ফলাফল একদিনে আসে না। একটি প্রজন্ম গড়ে ওঠে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, ত্যাগ, শ্রম ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে। এজন্য শিক্ষিত সমাজ, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি এবং সচেতন নাগরিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
ওসমান গনি মজুমদার মনে করেন, শিক্ষার লক্ষ্য শুধু জিপিএ অর্জন বা সার্টিফিকেট সংগ্রহে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। শিক্ষার মাধ্যমে এমন মানুষ তৈরি করতে হবে, যারা হবে সৎ, দক্ষ, মানবিক, দেশপ্রেমিক ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন।
কারণ আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের প্রশাসক, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, উদ্যোক্তা ও সমাজনেতা—উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের সঠিকভাবে গড়ে তোলার ওপরই ভবিষ্যৎ উত্তর ফটিকছড়ির অনেক কিছু নির্ভর করছে।
পোস্টে শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষকতাকে শুধু পেশা হিসেবে নয়, ব্রত হিসেবে গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যক্তিস্বার্থ, দলীয় সংকীর্ণতা ও অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতার ঊর্ধ্বে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। শিক্ষার মানোন্নয়নে যারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন, তাদের জন্য সহযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
উত্তর ফটিকছড়ির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রসঙ্গে ওসমান গনি মজুমদার বলেন, এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু কোনো অবকাঠামো, প্রকল্প কিংবা প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়; বরং একটি সুশিক্ষিত, দক্ষ ও সচেতন প্রজন্ম।
তার মতে, আজ যদি শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করা যায়, তাহলে আগামী দশ বছর পর তার সুফল পুরো উত্তর ফটিকছড়ি ভোগ করবে।
তিনি এমন একটি উত্তর ফটিকছড়ি গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যেখানে প্রতিটি শিশুর জন্য শিক্ষার আলো নিশ্চিত হবে, প্রতিটি শিক্ষক সম্মানিত হবেন এবং প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠবে মানবিক ও আলোকিত মানুষ গড়ার কেন্দ্র।
পোস্টের শেষদিকে তিনি বলেন—
“আজকের বিনিয়োগ হোক শিক্ষায়, আগামী দিনের অর্জন হোক একটি সমৃদ্ধ, উন্নত ও আলোকিত উত্তর ফটিকছড়ি।”
এছাড়া তিনি আহ্বান জানান, “উপজেলা গঠনের পাশাপাশি আমাদের শপথ হোক একটি সুশিক্ষিত প্রজন্ম গড়ে তোলা” এবং “উত্তর ফটিকছড়ির ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হতে হবে আজকের শ্রেণিকক্ষে।”
নিজেকে “উত্তর ফটিকছড়ির নগণ্য এক সন্তান” হিসেবে উল্লেখ করে নিজের মনের আকুতি প্রকাশ করেছেন ওসমান গনি মজুমদার। তিনি তার বক্তব্য গ্রহণ-বর্জনের বিষয়টি সমাজের ওপর ছেড়ে দিয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামত দিন!
আপনি যদি চুপ থাকেন,
আপনার হয়ে কে কথা বলবে?
গ্রাফ ফোরামে লগইন করুন। নির্ভয়ে আপনার মতামত প্রকাশ করুন।
অ্যাকাউন্ট নেই? এখনই যোগ দিন — বিনামূল্যে