যে কোন ধর্মের সবচেয়ে বড় ক্ষতি বাইরের কোনো আঘাত থেকে হয় না, হয় স্বধর্মীদের ভেতরের লেবাসধারীদের থেকে। অনেকেই মনে করে থাকেন ভিন্ন ধর্মের বা মতের মানুষ বুঝি ধর্মের প্রধান শত্রু। কিন্তু একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, ধর্মের আসল শত্রু কোনো বিধর্মী নয়, বরং তার নিজ ধর্মের লেবাসধারীরা।
বকপাখি যেমন এক পায়ে দাঁড়িয়ে গভীর ধ্যানের ভান করে, কিন্তু তার পুরো মনোযোগ থাকে পানির নিচের মাছটির দিকে—ঠিক তেমনি বকধার্মিকেরা ধর্মেরই বাহ্যিক লেবাস, আচার আর তসবিহ-তিলক ধারণ করে কেবলই নিজের আখের গোছাতে ওঁত পেতে থাকে। তাদের মুখে থাকে সুমিষ্ট ধর্মের বাণী, কিন্তু অন্তরে থাকে হিংসা, জিঘাংসা, লোভ আর কপটতা।
একজন বিধর্মী ধর্মের ক্ষতি করতে পারে না, কারণ তার অবস্থান স্পষ্ট। সবাই জানে সে ভিন্ন পথের। কিন্তু একজন বকধার্মিক ছদ্মবেশে সাধারণ মানুষের ভেতরে ঢুকে, তাদের সরলতাকে পুঁজি করে নিজেদের আখের গুছিয়ে নেয়। তাদের সাথে প্রতারণা করে। ফলে ধর্মপ্রাণ মানুষ ধর্ম সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করতে শুরু করে। তারা আবার নিজেদের স্বার্থে ধর্মের অপব্যাখ্যা দেয়, সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে এবং সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে ব্যবসা করে। এদের এই ভণ্ডামি দেখে মানুষ একসময় ধর্মের প্রতিই আস্থা হারিয়ে ফেলে।