চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বিএনপির এক নিবেদিত কর্মীকে আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে উল্লেখ করে একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। সোমবার (৩ আগস্ট) আদালতে পুলিশি প্রতিবেদন দাখিলের পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিলে বিষয়টি উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. নুরুল আজম (৫৪)। তিনি ফটিকছড়ি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পরান চৌধুরী বাড়ির মৃত হাজী মো. ইউনুসের ছেলে। তিনি বৃহত্তর ফটিকছড়ি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ, সাপ্তাহিক হালদা পত্রিকার উপ-সম্পাদক (ক্রীড়া) এবং ফটিক প্লাজায় অবস্থিত একটি এপেক্স শোরুমের স্বত্বাধিকারী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আদালতে দাখিল করা পুলিশি প্রতিবেদনে নুরুল আজমকে ফটিকছড়ি পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাদের দাবি, পৌর আওয়ামী লীগের প্রকৃত কমিটিতে ওই পদে রয়েছেন আলহাজ মো. জয়নাল আবেদীন। অভিযোগ রয়েছে, কমিটির একটি কপি সম্পাদনা (এডিট) করে নুরুল আজমের নাম যুক্ত করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, নুরুল আজম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকাল থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপির সদস্যপদ গ্রহণ করেন এবং ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন। সর্বশেষ ২০১৭ সালেও তিনি ফটিকছড়ি পৌর বিএনপির সদস্যপদ নবায়ন করেন বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও রাজনৈতিক চাপ ও প্রতিহিংসার মুখে থেকেও তিনি বিএনপির রাজনীতি থেকে সরে যাননি। বর্তমানে তিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের একাধিক যৌথ ছবি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতির ছবিও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
নুরুল আজমের স্ত্রী, ফটিকছড়ি সরকারি কলেজের প্রভাষক অনামিকা সায়মা অভিযোগ করে বলেন,
“আমার স্বামী আজীবন বিএনপির রাজনীতি করেছেন। বিএনপিই তার আদর্শ। তাকে আওয়ামী লীগের নেতা বানিয়ে মামলায় জড়ানো একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।”
পরিবারের দাবি, তার রাজনৈতিক পরিচয় ভুলভাবে উপস্থাপন করে একটি স্পর্শকাতর মামলায় জড়ানো হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে একজন ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে মামলায় জড়ানো হয়ে থাকে, তাহলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা রাজনৈতিক পরিবেশ ও আইনের শাসনের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে এবং ভবিষ্যতে রাজনীতিতে সৎ ও শিক্ষিত মানুষের অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত করতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
ফটিকছড়ি থানা সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (২ আগস্ট) রাতে বিবিরহাট ফটিক প্লাজার সামনে থেকে নুরুল আজমকে আটক করা হয়। পরদিন তাকে একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।
এ বিষয়ে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম খান বলেন,
“মামলার ঘটনার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন—এমন কিছু তথ্য-প্রমাণ পুলিশের হাতে এসেছে। সে কারণেই তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।”
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. জহির আজম চৌধুরী বলেন,
“বিএনপির কোনো কর্মীর গায়ে আওয়ামী লীগের পরিচয় দেওয়ার সুযোগ নেই। যারা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামত দিন!