নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর গণশুনানির সুপারিশ ও জনমতের ভিত্তিতে ন্যায়সঙ্গত ও যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে পৃথকভাবে স্মারকলিপি দিয়েছেন উত্তর ফটিকছড়ির সচেতন নাগরিকবৃন্দ।
সচেতন নাগরিকদের পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলম মাসুদ স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, সরকার প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা প্রতিষ্ঠার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়ন। এজন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হলেও সদর দপ্তরের অবস্থান নির্ধারণকে কেন্দ্র করে বর্তমানে এলাকায় উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, গণশুনানির সুপারিশ, পূর্ববর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং স্থানীয় জনগণের মতামত উপেক্ষা করে সদর দপ্তরের অবস্থান নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। এর ফলে নতুন উপজেলার প্রায় ৬৫ শতাংশ জনগণ নিজেদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, সদর দপ্তরের যৌক্তিক অবস্থান নিশ্চিত করার দাবিতে উত্তরাঞ্চলের মানুষ ইতোমধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ, মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৬ ও ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে আন্দোলনকারীরা হরতাল কর্মসূচি প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে প্রশাসনের কাছে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানানো হয়েছে। সেগুলো হলো—
স্মারকলিপির শেষাংশে অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলম মাসুদ উল্লেখ করেন, জনস্বার্থ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন উত্তর ফটিকছড়ির সচেতন নাগরিকরা।
উল্লেখ্য, নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর কোথায় স্থাপন করা হবে—এ প্রশ্নকে কেন্দ্র করে উত্তরাঞ্চলে কয়েক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিক আন্দোলন, বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, সংবাদ সম্মেলন এবং বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে জনগণের পক্ষে অন্যতম মুখপাত্র হিসেবে অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলম মাসুদ নিয়মিতভাবে দাবি তুলে ধরছেন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে স্মারকলিপি ও আবেদনপত্র দাখিল করছেন।
এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামত দিন!