চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ১নং বাগানবাজার ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকায় তিন যুবকের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন শরিফুল ইসলাম, জাহিদ হাসান ও আবু বকর। তারমধ্যে শরিফ এড. ইউসুফ আলম মাসুদের জেঠাত বোনের ছেলে (ভাগিনা)।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, শরিফুল ইসলাম ও জাহিদ হাসান ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও বর্তমানে তাদের কোনো সাংগঠনিক পদ নেই।
অভিযোগ রয়েছে, গত সপ্তাহে শরিফুল ইসলাম রাতের আঁধারে নিজের বাড়িতে দুই বস্তা গাঁজা এনে রাখেন। বিষয়টি টের পেয়ে তার মা মাদকগুলো সরিয়ে ফেলতে চাপ দেন। কিন্তু শরিফুল মায়ের কথা না শুনে তাকে হুমকি-ধমকি দেন বলে অভিযোগ। পরে পারিবারিক চাপে মাদকগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
পরদিন শরিফুলের নানা আমিনুল হক বিষয়টি স্থানীয় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জসিম উদ্দিনকে অবহিত করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, জসিম উদ্দিন বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেন। একই বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে এড. ইউসুফ আলম মাসুদকেও জানানো হয়।
এ বিষয়ে এড. ইউসুফ আলম মাসুদ বলেন, “শরিফের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি সত্য। সে আমার জেঠাত বোনের ছেলে (ভাগিনা)। সে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে—এ বিষয়ে তার স্ত্রী, মা , বাবা ও নানা আমাকে অবগত করেছেন, যেনো তার বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ করা হয়। আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি, এ বিষয়ে আমার কোনো সহযোগিতা থাকবে না। একই সঙ্গে দাঁতমারা পুলিশ ফাঁড়িকেও বিষয়টি অবগত করেছি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। এছাড়া কিছুদিন আগে তক্ষক বেচাকেনা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে শরিফুল, জাহিদ ও ইব্রাহিম মিলে আবু বকরকে ধরে এনে মারধর ও আটকে রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা হয় বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
এছাড়াও কয়েক মাস আগে বাগানবাজার ইউনিয়নের মাদারতলী এলাকায় একটি সিএনজির গতিরোধ করে যাত্রীর কাছ থেকে অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় জাহিদসহ কয়েকজনের নাম উঠে আসে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। স্থানীয় সালিশে অভিযুক্তদের কাছ থেকে দায় স্বীকার ও ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়েও অভিযোগ রয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামত দিন!