ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ২ নং দাঁতমারা ইউনিয়নের হেঁয়াকো এলাকায় একটি বাসাবাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে প্রসূতি ও নারী রোগের চিকিৎসার নামে অনুমোদনহীন কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ প্রকাশ করেছে সাপ্তাহিক ফটিকছড়ি। সম্প্রতি প্রকাশিত পত্রিকাটির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই সেখানে নিয়মিত রোগী দেখা, চিকিৎসা প্রদান এবং বিভিন্ন চিকিৎসাসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হেঁয়াকো বাজারসংলগ্ন একটি বাসাবাড়িতে ডা. রোকসানা আখতার নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে নারী ও প্রসূতি রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা সেখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। অনেকেই এটিকে একটি বৈধ চিকিৎসাকেন্দ্র মনে করে সেবা গ্রহণ করছেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, ওই বাসায় শুধু রোগী দেখা নয়, ব্যবস্থাপত্র প্রদান, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ওষুধ সরবরাহের মতো কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া প্রসূতি রোগীদের ছোটখাটো অপারেশন বা চিকিৎসাজনিত বিভিন্ন প্রক্রিয়াও সেখানে সম্পন্ন করা হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ উদ্ধৃত করা হয়েছে।
সাপ্তাহিক ফটিকছড়ির প্রতিবেদনে চিকিৎসক হিসেবে ব্যবহৃত বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-এর নিবন্ধন নম্বর নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনের দাবি, ব্যবহৃত নিবন্ধন নম্বরটি অন্য একজন চিকিৎসকের নামে নিবন্ধিত। বিষয়টি সত্য হলে তা রোগীদের বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি চিকিৎসা পেশার নীতিমালারও পরিপন্থী হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে স্থানীয় সচেতন মহলের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তাদের মতে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম, প্রশিক্ষিত জনবল ও সরকারি অনুমোদন ছাড়া বাসাবাড়িতে এ ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হলে প্রসূতি মা ও নবজাতকের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তাদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামত দিন!